প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ গোটা রাজ্য তথা দেশবাসীর নজর ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ সেখানে আইপ্যাকের দপ্তরে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছে যাওয়া এবং বেশ কিছু নথি নিয়ে চলে আসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। আর সেই মামলার গতিপ্রকৃতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার দিকে নজর ছিল রাজ্যবাসীর। সকলেই দাবি করতে শুরু করেছিলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত চলাকালীন সেখানে যাবেন? আর কেনই বা তিনি সেখান থেকে নথি নিয়ে আসবেন? এর পরেও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে না? যার পরিপ্রেক্ষিতে রীতিমত কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছিল ইডি, এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং বেশ কিছু প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। অবশেষে আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলার শুনানি হয়। যেখানে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি সব পক্ষকে নোটিশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, পুলিশের পক্ষ থেকে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে। যা রাজ্যের কাছে যথেষ্ট চাপের কারণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই সুপ্রিম কোর্টের প্রথম শুনানির পরেই বড় প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আজ যা হয়েছে, তা গোটা রাজ্যবাসীর নজরে এসেছে। প্রথম শুনানিতে যে সমস্ত বক্তব্য উঠে এসেছে এবং শীর্ষ আদালত যা জানিয়েছে, তাতে সকলেই প্রায় খুশি। প্রত্যেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন পরবর্তী শুনানির দিনের জন্য। এই রাজ্য প্রশাসন এবং কিছু আধিকারিক যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় চলে তদন্তকারী সংস্থা যখন তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে নথি নিয়ে এসেছিলেন, তা যে অত্যন্ত আইনভঙ্গ কাজ হয়েছে, সেই ব্যাপারে বিরোধীরা এতদিন দাবি করতে শুরু করেছিলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিলো। তবে সেক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির কথা জানাতেই এই রাজ্যের পুলিশ অনেকটাই চাপে পড়ে গিয়েছে। আর সেই ব্যাপারেই এবার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানিতে যে বক্তব্য উঠে এসেছে, তাকে স্বাগত জানান তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “আমি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমাদের পার্টির যে দিল্লী এবং কলকাতা থেকে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে সংযোজন করেই বলবো, খুব পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে খুব দামি দামি আইনজীবী, প্রচুর টাকা খরচ করে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আজকের এই অন্তর্বর্তীকালীন যে জাজমেন্ট এসেছে, তাতে গত পাঁচ বছরের মত আজকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতিগ্রস্ত তার যে আমলা, সিপি, ডিজি, সিএস, আধিকারিকদের ব্যক্তিগত কাজে এবং চোরেদের পক্ষে ব্যবহার করা, এতে একটা উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক জাজমেন্ট এসেছে বলে আমার মনে হয়েছে।”