প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শো কেলেঙ্কারিতে ধৃত এ রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল কলকাতা পুলিশ। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া এবং অ জামিনযোগ্য ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হলেন তদন্তকারীরা। বিপুল অঙ্কের বেআইনি অর্থ ও সম্পত্তি আড়াল করার অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার MPO (Money laundering and Prohibition/Offences) আইনের ২ এবং ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করার আবেদন জানাল পুলিশ। আজ ব্যাঙ্কশাল আদালতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউনেস্কো (UNESCO)-র লোগো এবং নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে ‘মাস আর্ট’ (MassArt) নামক সংস্থার আড়ালে জনসাধারণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই দুর্নীতির অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তদন্তকারীদের মূল অভিযোগ হলো, এই সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের কালো টাকা সরাসরি নিজেদের কাছে না রেখে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (Money Trail)। সরকারি পদ ও প্রভাব খাটিয়ে অর্জিত এই বেআইনি সম্পত্তি ও অর্থ পাচারের চক্রটিকে পুরোপুরি খতিয়ে দেখতেই এই নতুন ধারা যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্যাঙ্কশাল আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারীরা দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, কোনো সরকারি পদাধিকারী যদি বেআইনি উপায়ে বিপুল অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন করেন এবং তা গোপনের চেষ্টা করেন, তবে সংশোধিত আইনের ২ নম্বর ধারার আওতায় এনে অপরাধের পরিধি নির্ধারণ করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। এই ধারায় এই ধরনের চরম আর্থিক অপরাধের জন্য কড়া শাস্তির এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিন পাওয়ার পথ যে আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।