প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন উপনির্বাচনের মুখে নির্বাচনী প্রতীক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক তীব্র চাঞ্চল্য ও নাটকীয় মোড় তৈরি হলো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত, লোকসভা ও সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে যে চেনা ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে ভাঙড়ে একের পর এক চমক দিয়েছিল আইএসএফ (ISF), তা রাতারাতি হাতছাড়া হয়েছে। আর এই ‘খাম’ হাতছাড়া হতেই নির্বাচন কমিশনের ওপর চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠে সোজা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই হাইপ্রোফাইল মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটলের জেরে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করার পর এক অন্তর্বর্তী রায় দেয়। সেই রায় অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশটিকে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (Democratic TMC) নাম এবং এই বহুল পরিচিত ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুই রাজনৈতিক দলের একই প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে কমিশন আইএসএফ-কে চেনা ‘খাম’-এর বদলে ‘আলমারি’ প্রতীক ধরিয়ে দিয়েছে। রাতারাতি গজিয়ে ওঠা একটি দলের হাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতীক তুলে দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন নৌশাদ। হাইকোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, “আমাদের মূল রাজনৈতিক অস্ত্র ‘খাম’ প্রতীক রাতারাতি গজিয়ে ওঠা একটা পার্টিকে দিয়ে দেওয়া হলো! আমাদের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে। কোনো রকম আলোচনা না করেই কমিশন এই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে দলটির আগে অস্তিত্বই ছিল না, তারা কীভাবে রাতারাতি ‘রেকগনাইজড পার্টি’র মতো প্রতীক পেয়ে গেল?”
আইএসএফ মূলত বিহারের ‘রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি’র অন্তর্ভুক্ত প্রতীক হিসেবে এতকাল এই ‘খাম’ চিহ্ন ব্যবহার করে আসছিল। এই প্রতীকেই ভাঙড় থেকে পরপর দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন নৌশাদ। আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ রাজ্যে দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোটের ঠিক মুখে ভোটারদের কাছে অতি পরিচিত এই চেনা প্রতীক হাতছাড়া হলে ব্যালট বক্সে তার বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রতীক ফেরত পেতে মরিয়া লড়াই শুরু করেছে আইএসএফ।
মামলা দায়ের করার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন নৌশাদের আইনজীবীরা। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের দাবি, আইএসএফ যেহেতু এ রাজ্যে কোনো ‘স্বীকৃত দল’ বা রেকগনাইজড পার্টি নয়, তাই নির্বাচন কমিশন যেকোনো ফ্রি-সিম্বল অন্য দলকে দেওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে। হাইকোর্ট এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে লিখিত জবাব চাইতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হতে পারে, যেখানে নির্ধারিত হবে উপনির্বাচনের ময়দানে নৌশাদরা ‘খাম’ ফেরত পাবেন নাকি ‘আলমারি’ নিয়েই লড়তে হবে।