প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তীব্র ছাত্র সংঘর্ষের জেরে এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কময় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI)-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যেকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মাঝেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে থাকা ঐতিহাসিক গর্বের প্রতীক—বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল এমব্লেম (Emblem)। এই ঐতিহ্যবাহী স্মারকটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দায় ফেটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও প্রাক্তনীরা। ঘটনার মূল দায় সরাসরি এবিভিপি-র ঘাড়ে চাপিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের ভেতরের একাধিক অভ্যন্তরীণ ইস্যু ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে এবিভিপি এবং এসএফআই-এর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। সম্প্রতি সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। দু’পক্ষের ছাত্ররা লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা ক্যাম্পাস। চলে যথেচ্ছ ইটবৃষ্টি ও ভাঙচুর।

সংঘর্ষ চলাকালীন সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের ওপর। প্রধান গেটের সামনে দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি ও ভাঙচুরের সময় ধাক্কা লেগে এবং ভারী বস্তুর আঘাতে ভেঙে পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি সেই ঐতিহাসিক এমব্লেমটি, যা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে দশকের পর দশক ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা শিক্ষামহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ অধ্যাপক অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “যাদবপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস যাই হোক না কেন, এখানকার ছাত্ররা কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্মারকে হাত দেওয়ার কথা ভাবতেও পারত না। আজকের ঘটনা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবিভিপি এবং তারাই ইচ্ছা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক প্রতীকটি ভেঙে ফেলেছে। যদিও এবিভিপি-র তরফ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, বামপন্থীরাই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নিজেরা ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ক্যাম্পাস চত্বরে নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।