প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন এবং কল্পনাতীত মহাবিস্ফোরণ! বিরোধী শিবিরের দিকে আঙুল তোলার বদলে, এবার খোদ নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই রাগে ফেটে পড়লেন পাণ্ডবেশ্বরের হেভিওয়েট বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দলীয় কর্মীদের গুন্ডামি, লাগামহীন তোলাবাজি এবং জবরদখল নিয়ে প্রকাশ্যে যে ভাষায় তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।

পাণ্ডবেশ্বরের একটি দলীয় সভা থেকে জিতেন্দ্র তিওয়ারির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যুৎ গতিতে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “বিগত দু’মাসের মধ্যে আমাদের দলের কিছু লোক ওখানের (তৃণমূলের) চেয়েও বড় গুন্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের পার্টির লোকরাই এখন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা দায় করে দিয়েছে!”

এখানেই শেষ নয়, খনি ও শিল্পাঞ্চলের অন্দরে চলা কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে জিতেন্দ্র আরও বলেন, “আগে মাসে ৪টে সরকারি কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখল করা হতো, আর এখন আমাদের লোকরাই এক সপ্তাহে ৪টে কোয়ার্টার দখল করছে! যেখান থেকে খুশি চাঁদা তোলা হচ্ছে। ঠিকাদারদের চরম হয়রানি করা হচ্ছে, এটা কর ওটা কর বলে টাকা চাওয়া হচ্ছে।” ক্ষুব্ধ বিধায়ক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যারা ভাবছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি কিছু জানতে পারছে না, তারা মূর্খের স্বর্গে আছেন। তাঁর কাছে সব খবর রয়েছে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যের পরই আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীরা বাইরে বড় বড় কথা বললেও, তাঁদের নিজেদের বিধায়কই দলের কঙ্কালসার চেহারাটা এবং ‘গুন্ডারাজ’ জনসমক্ষে ফাঁস করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের কিছু কর্মীর অতি-সক্রিয়তা ও অহংকার নিয়ে জিতেন্দ্রর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও ‘সাবধানবাণী’ বঙ্গ বিজেপি-কে এক চরম অস্বস্তির মুখে ফেলে দিল।