প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার পূর্বতন শাসক শিবিরে ফের এক বিশাল ধস! ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার একে একে খসে পড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ও বিশ্বস্ত স্তম্ভগুলি। এবার সরাসরি দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন হুগলির দাপুটে নেতা, তিন বারের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। আজ রবিবার চুঁচুড়ায় এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি। দল ছাড়ার মুহূর্তেই তাঁর বিস্ফোরক তোপ, “কিছু দালাল দলটাকে পুরোপুরি শেষ করে দিল!”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় ৪০ বছরের এই রাজনৈতিক সঙ্গী আজ দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তপন দাশগুপ্ত বলেন, “রাজনীতি যখন ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন দলের এই রকমই হাল হয়।” তাঁর দাবি, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ভুলের কারণেই আজ দলটার এই অবস্থা। বিগত ২ মাস ধরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দল ছাড়ার পর কোনো রাখঢাক না রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরাজ প্রশংসা শোনা গেল এই প্রাক্তন মন্ত্রীর গলায়। তিনি সাফ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী ভালো ছেলে, ও খুব ভালো কাজ করছে।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় একটা বড় অভিমান জমেছিল তাঁর মনে। এর ওপর আবার তাঁর পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী অসিত মজুমদারকে হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি করায় ক্ষোভের আগুন আরও বাড়ে।

তৃণমূল ছাড়লেও তিনি যে সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকছেন, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন লড়াকু এই নেতা। তবে তিনি এই মুহূর্তে অন্য কোনো নির্দিষ্ট শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা সরাসরি ঘোষণা করেননি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, আগামী দিনে সুযোগ বুঝে তিনি অন্য কোনো শিবিরে যোগ দিতে পারেন। ৪০ বছরের পুরনো সঙ্গীর এই দলত্যাগ নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে তৃণমূলের জন্য এক মস্ত বড় ধাক্কা।