প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগের রাতেই লোকসভার অন্দরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় ওলটপালট! লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের আসন বিন্যাসে এক বিরাট রদবদল ঘটাল লোকসভা সচিবালয়। এতদিন ধরে লোকসভার দলনেতা হিসেবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের যে ৩৫৪ নম্বর প্রথম সারির আসনে বসতেন, এবার সেই আসনটি পেয়ে গেলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত পিছনের সারির ২৮১ নম্বর আসনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অনুমোদনের পরেই এই বড় পরিবর্তন সামনে এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন নম্বর ২৮০ থেকে বদলে সরাসরি ৩৫৪ করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। তৃণমূলের অন্দরের দীর্ঘদিনের সমীকরণ কি তবে এবার লোকসভার আসন বিন্যাসেও স্পষ্ট হয়ে উঠল, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
দলের আসন বিন্যাসের এই হঠাৎ বদলের পিছনে রয়েছে লোকসভার এক বড় সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যারা এনসিপিআই (NCPI) জোটে সামিল হয়েছেন, তাঁদের লোকসভায় সম্পূর্ণ আলাদা বসার জায়গা করে দিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। আর এই নতুন ব্যবস্থার জেরেই ওলটপালট হয়ে গিয়েছে মূল তৃণমূল শিবিরের আসন বিন্যাস। শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই নতুন তালিকায় আসন খোয়াতে হয়েছে দলের আরও একাধিক প্রবীণ মুখকে।
তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্দরের এই চরম ডামাডোলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দিল্লির অলিন্দে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। একদিকে রাজ্যের মাটিতে একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের প্রস্তুতি, আর অন্যদিকে খোদ দেশের সংসদে দলের সেনাপতির আসন পরিবর্তনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা—সব মিলিয়ে বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ যে ব্যাপক জটিল রূপ নিল, তা বলাই বাহুল্য।