প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলের অন্দরের নজিরবিহীন ফাটল এবং ভাঙনের আবহে এবারের একুশে জুলাইয়ের মেগা ফাইট ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! একদিকে আদালতের কড়া শর্তে তারামণ্ডলের সামনে ছোট মঞ্চে কোনঠাসা মমতা-শিবির, আর অন্যদিকে মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে রাজকীয় প্রস্তুতির খতিয়ান দিয়ে কার্যত নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী! রবিবার মেয়ো রোডের সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে একগুচ্ছ বড় চমকের কথা শোনালেন দলের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ নেতা অরূপ রায়।
এদিন মেয়ো রোডের সভামঞ্চ বাঁধার কাজ খতিয়ে দেখতে হাজির হন ঋতব্রত-তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখান থেকেই মঞ্চের বিশালত্ব নিয়ে বড় ঘোষণা করেন অরূপ রায়। তিনি সাফ জানান, “৬ ফুটেরও ওপরে মূল ডায়াসটি তৈরি করা হয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় চমক, এই মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবি বা কাটআউট থাকছে না! তার বদলে মূল মঞ্চে স্থান পাচ্ছে মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি।
দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ১৯৯৩ সালের মূল আবেগকে সম্মান জানাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋতব্রত-শিবির। মঞ্চের ঠিক সামনের ভিআইপি সারিতে কোনও বড় নেতা, সাংসদ বা মন্ত্রী নয়, বসবেন শুধুমাত্র ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে মৃত শহিদ পরিবারের সদস্যরা। সমাবেশ সফল করতে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই ৬টি জেলার ওপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাত্র ২৫০০ জনের সীমিত সভার আইনি গেরো, আর অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত শিবিরের এই বিশাল তৎপরতা—সব মিলিয়ে ছাব্বিশের ফলাফলের পর এই একুশে জুলাইয়ের মেগা টক্করে বাংলার রাশ কার হাতে থাকে, এখন সেটাই দেখার।