প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সংসদে আসন খোয়ানোর পর এবার ঘরের মাঠেও চরম অস্বস্তিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের ঠিক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি থানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের হল আমফান ঝড়ের ত্রাণ তহবিল দুর্নীতির এক মারাত্মক অভিযোগ। ফলতা ও বিষ্ণুপুরের পর এবার নোদাখালিতে নতুন মামলা রুজু হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল।
রবিবার নোদাখালি থানায় গিয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কেন্দ্রীয় টাকা বিলির ক্ষেত্রে খোদ বজবজ-২ নম্বর ব্লকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। ভুয়ো নথি, একই ফোন নম্বর এবং একই ব্যাঙ্কিং ডিটেলস ব্যবহার করে প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর এই সম্পূর্ণ জালিয়াতি হয়েছে খোদ সাংসদের সুপারিশেই।
বিজেপি নেতা ববির দায়ের করা এই হাই-প্রোফাইল অভিযোগপত্রে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, নাম রয়েছে তৎকালীন একাধিক প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকদেরও। দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে তৎকালীন বিডিও (BDO), পঞ্চায়েত প্রধান সহ স্থানীয় একঝাঁক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও কড়া শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে বিষ্ণুপুর থানায় ২৫০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এবং ফলতা থানার জোড়া এফআইআর-এর পর, একই দিনে নতুন করে নোদাখালি থানা ও বিষ্ণুপুর থানায় হুমকির জোড়া ধাক্কায় আক্ষরিক অর্থেই কোণঠাসা মমতা-শিবির। একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের প্রাক্কালে দুর্নীতির এই একের পর এক কাঁটা কীভাবে সামলায় কালীঘাট, এখন সেটাই দেখার।