প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ টানাপোড়েন আর হাই-ভোল্টেজ প্রচারের পর শেষ হলো ২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধ। বুথফেরত সমীক্ষার পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলায়। সমীক্ষক সংস্থা ‘জনমত পোলস’ তাদের এক্সিট পোলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ১৯৫-২০৫টি আসনে এগিয়ে রাখলেও, রাজনীতির অন্দরে প্রশ্ন উঠছে—পদ্মশিবিরের জয়ের রথ কি সত্যিই আটকানো সম্ভব? নাকি এই সমীক্ষার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় চমক?
জনমত পোলসের রিপোর্ট অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল পেতে পারে ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন। সেখানে বিজেপিকে রাখা হয়েছে ৮০ থেকে ৯০টি আসনের ঘরে। বাম ও কংগ্রেস যথাক্রমে ০-১ এবং ১-৩টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ এই সমীক্ষা শাসক দলকে স্বস্তিতে রাখলেও মাঠের লড়াই বলছে অন্য কথা।
বাংলার নির্বাচনে সব সময় একটি বড় অংশ ‘সাইলেন্ট ভোটার’ থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের রক্তচক্ষু এড়িয়ে অনেক ভোটারই সমীক্ষায় মুখ খোলেন না। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির যে শক্তিশালী জনভিত্তি, তা অনেক সময় এই ধরনের আঞ্চলিক সমীক্ষায় এড়িয়ে যাওয়া হয়। লক্ষ্মী ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে বিজেপি যে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ বা নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার প্রভাব গ্রামীণ ব্যালট বক্সে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, জনমত পোলস তৃণমূলকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাট্রিজ (Matrize) বা চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের মত সংস্থাগুলো কিন্তু বিজেপিকেই ম্যাজিক ফিগারের উপরে রাখছে। চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস বিজেপিকে ১৫০-১৬০টি আসন দিয়ে ক্ষমতায় আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইতিহাস বলছে, ২০১৬ বা ২০২১-এর বুথফেরত সমীক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ফলাফলের সাথে মেলেনি। বিশেষ করে যখন একাধিক সংস্থার সমীক্ষা দুই ভিন্ন মেরুর ইঙ্গিত দেয়, তখন শেষ হাসি কে হাসবে তা বলা কঠিন। ৯২ শতাংশের উপরে ভোট পড়ার অর্থই হলো বাংলার মানুষ কোনো এক গভীর পরিবর্তনের লক্ষ্যে বুথমুখী হয়েছেন। তৃণমূল শিবির যখন জনমত পোলসের রিপোর্ট দেখে উল্লাসে মগ্ন, বিজেপি তখন ঘর গুছিয়ে অপেক্ষা করছে ৪ মে-র।
পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, “সমীক্ষা যাই বলুক, আসল ফলাফল বাংলার মানুষের আস্ফালনকেই প্রমাণ করবে।” সব সমীকরণ কি তবে ৪ মে দুপুরে ওলটপালট হয়ে যাবে? বাংলার মসনদ কার দখলে—পিসি না মোদির সেনাপতি? উত্তর দেবে সময়।