প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের অন্তিম পর্বের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হতেই ফের বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদরের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা প্রাক্তন মেদিনীপুর সাংসদ দিলীপ ঘোষের নিশানায় এবার সরাসরি শাসকদলের গত দেড় দশকের রাজত্ব। ভোট মেটার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের হাতে কোনো ইস্যু ছিল না। পাশাপাশি ‘এসআইআর’ (SIR) বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বাংলার মানুষের বুদ্ধিদীপ্ত রায়ের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গতকাল ভোট প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার পর আজ দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, “পনেরো বছর ধরে রাজত্ব করা শাসক দলের কাছে এবারের নির্বাচনে আর কোনও ইস্যু ছিল না। যেদিন থেকে SIR কথাটা উচ্চারণ হয়েছে সেদিন থেকে বলা হয়েছে SIR করতে দেব না।” তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, বুথ লেভেলে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ‘BLO ইউনিয়ন’ তৈরি করে বিজেপিকে আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের কাজে যুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে কালো পতাকা দেখানো বা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে কাজ বন্ধ করার চেষ্টাও হয়েছে। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “এত কিছুর পরও তিনি (দিলীপ ঘোষ নিজে) নড়েননি, বরং কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন।” তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর সাফ কথা— “বাঙালির ঘিলু শুকিয়ে যায়নি যে আবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবে।”

২০২৬-এর এই নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্পেশাল ইটারেটিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR)। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এসআইআর-এর মাধ্যমে বহু ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, যারা অনুপ্রবেশকারী বা যাদের নথিতে গরমিল আছে তাদের নাম বাদ যাওয়াটাই স্বাভাবিক। যারা এর বিরোধিতা করছে তারা দেশবিরোধী শক্তির পক্ষ নিচ্ছে।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, স্থানীয় স্তরে বিএলও-দের (BLO) ব্যবহার করে শাসকদল ভোটের হিসাবে হেরফের করতে চেয়েছিল, যা কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে সফল হয়নি।
২০২৬-এর এই নির্বাচনে মোট ২ দফায় ২৯৪টি আসনে ভোট হয়েছে। গতকাল ২৯শে এপ্রিল ছিল শেষ দফার ভোট। দিলীপ ঘোষ নিজের পুরনো দুর্গ খড়গপুর সদর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড এবং উচ্চ ভোট শতাংশ (৯৪-৯৫% পর্যন্ত কিছু বুথে) দেখে দিলীপ ঘোষ নিশ্চিত যে, মানুষ নির্ভয়ে নিজের ভোট দিয়েছেন এবং পরিবর্তন আসন্ন।