প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমাকে সামনে রেখে দুর্গাপুজোর প্রাক-বিক্ষণ (Preview Show) এবং ভিআইপি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে এবার বেনজিরভাবে সরব হলেন প্রাক্তন তৃণমূল ও বর্তমান এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রাক্তন সতীর্থের গ্রেফতারিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাজকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এর পেছনে থাকা গভীর দুর্নীতির বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন তিনি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ধৃত ইন্দ্রনীল সেনের কীর্তিকলাপের তীব্র নিন্দা করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে যেভাবে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তোলা হয়েছে, তা আইনত ও নীতিগতভাবে ক্ষমার অযোগ্য।
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ টেনে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “উনি আন্তর্জাতিক সংস্থার এমব্লেম (UNESCO Logo) ব্যবহার করে, মানুষকে ঠকিয়ে তাদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা তুলেছেন। সুতরাং তদন্তকারী সংস্থা তার তদন্তের মাধ্যমে ওঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং গ্রেফতার করেছেন। তদন্তকারী সংস্থা ও আইনকে তাদের কাজ করতে দিন, এর মধ্যে আমাদের রাজনৈতিকভাবে ঢোকা বা হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই কাজ কার্যত দেশের সম্মান আন্তর্জাতিক স্তরে বেচে দেওয়ার সামিল। শুধু ইন্দ্রনীল সেনই নন, এই বিপুল পাস কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ ও প্রভাবশালীদেরও গ্রেফতার করা উচিত বলে দাবি তুলেছেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি পাওয়ার পরই ২০২২ সালে ‘মাস আর্ট’ (MassArt) নামক একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়, যার মাথায় ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। অভিযোগ, ইউনেস্কোর অনুমোদন ছাড়াই তাদের নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ভিআইপি প্রবেশপত্র এবং প্রাক-বিক্ষণ টিকিট ৪,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো পরবর্তীতে এই ধরণের কোনও পার্টনারশিপের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যৌথভাবে এই মামলার তদন্ত করছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির ম্যারাথন জেরা শেষে বের হতেই কলকাতা পুলিশ ইন্দ্রনীল সেনকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। প্রাক্তন সতীর্থের বিরুদ্ধে খোদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।