প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে হঠাৎ বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা (যেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল) থেকে কড়া শিক্ষা নিল প্রশাসন। আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলিতে যাতে রাজ্যের আর কোনও মণ্ডপে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কড়া গাইডলাইন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি পুজো কমিটিকে এই গাইডলাইন বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ ও বাইরে বের হওয়ার রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম খামতি বরদাস্ত করা হবে না।

মণ্ডপে প্রবেশ এবং বাইরের দিকে বের হওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রবেশ পথের তুলনায় প্রস্থান পথ বা এক্সিট গেটের চওড়া অন্তত দ্বিগুণ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীরা যাতে দ্রুত এবং নিরাপদে মণ্ডপ থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য স্পষ্ট ‘ইভাকুয়েশন প্ল্যান’ বা আপৎকালীন পরিকল্পনা রাখতে হবে। কোনও অবস্থাতেই জরুরি প্রস্থানের রাস্তা আটকে রাখা বা সেখানে কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।

চোরবাগানের মত অতিরিক্ত ভিড়, আতঙ্ক (Panic) এবং বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও উদ্যোক্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপের ভেতর ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ চলে এলে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। চোরবাগানে মূলত হঠাৎ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এক্সিট গেটের মুখে দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ির কারণেই বিপর্যয় ঘটেছিল। তাই প্রশাসন কড়া নির্দেশ দিয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে আচমকা বৃষ্টি নামলে দর্শনার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পর্যাপ্ত শেড ও জল নিকাশির ব্যবস্থা মণ্ডপ চত্বরে রাখতে হবে।

পুজো কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সশরীরে মণ্ডপের আশেপাশে এবং বিশেষ করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথের মুখে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। মণ্ডপ ও তার সংলগ্ন এলাকায় ভিড় সামলাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমন্বয় (Coordination) রেখে কাজ করতে হবে পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের। নবান্ন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সমস্ত বড় ও হাইপ্রোফাইল মণ্ডপগুলি উদ্বোধনের আগে পুলিশ এবং দমকলের যৌথ দল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করবে। এই সমস্ত নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।