প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদ জংশন রেলওয়ে স্টেশনে তীব্র উত্তেজনা। স্টেশনের চরম অব্যবস্থা, নোংরা পরিবেশ এবং টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরাসরি স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। গত ১ নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার) সকালে মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশনে আচমকা হাজির হন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। নিজের বিধানসভা এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন চত্বর ঘুরে দেখার সময় চারপাশের আবর্জনা, নর্দমার বেহাল দশা, বন্ধ শৌচাগার এবং অচল এস্কেলেটর দেখে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন। মন্ত্রীর দাবি, প্রায় দেড় মাস আগেও তিনি স্টেশন কর্তৃপক্ষকে এই সমস্ত নাগরিক সমস্যার দ্রুত সংস্কারের কথা এবং কিছু নথি চেয়ে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু রেল প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দের ঘরে ঢুকে মন্ত্রী সরাসরি একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। মন্ত্রীর করা মূল অভিযোগগুলি হলো: কোনো বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই রেলের আমবাগান ও পুকুর বেআইনিভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রেলের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। মন্ত্রী এই সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র দেখতে চাইলে স্টেশন মাস্টার তা দেখাতে ব্যর্থ হন। সাধারণ যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাচ্ছেন না, অথচ দালালচক্রের মাধ্যমে চড়া দামে সেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে রেল প্রশাসনের একাংশ ও আরপিএফের (RPF) মদত রয়েছে বলে মন্ত্রী সরব হন। স্টেশন চত্বরের নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে দীর্ঘদিন ধরে CITU পরিচালিত অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টাঙ্গা স্ট্যান্ড বা ঘোড়ার গাড়ির পার্কিং এলাকাটি সরানোর জন্য মন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নির্দেশ দেন এবং এলাকাটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
অভিযোগের জবাবে স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দ পাল্টা দাবি করেন যে, আইন মেনেই সমস্ত কাজ হচ্ছে। এই কথা শুনে মন্ত্রী ও তাঁর সাথে থাকা বিজেপি কর্মীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্টেশন মাস্টারকে সরাসরি কর্তব্যে গাফিলতি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কড়া ভাষায় ধমক দেন। ভিডিওতে বিজেপি কর্মীদের একাংশকে স্টেশন মাস্টারকে কার্যত ধাওয়া করতেও দেখা গিয়েছে। মন্ত্রী সাফ জানান, রেলের সম্পত্তি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে যা ইচ্ছে তাই করবে।
ঘটনার পর মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মুর্শিদাবাদ স্টেশনের এই চরম অব্যবস্থা, নোংরা পরিবেশ এবং টেন্ডার দুর্নীতির সমস্ত ছবি ও তথ্যপ্রমাণ তিনি ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছেন। এই গোটা বিষয়টি তিনি খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও উচ্চতর রেল কর্তৃপক্ষের নজরে এনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানাবেন।