প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথমবারের জন্য কলকাতায় এসে সরাসরি দিল্লির মসনদ কাঁপানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীন। গতকাল, ২ নভেম্বর ২০২৬ (সোমবার) কলকাতায় বিজেপির মেগা পদযাত্রা ও জনসভায় যোগ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু থেকে শুরু করে ইন্ডি (INDIA) জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ (Save Democracy, End Anarchy) শীর্ষক এই মিছিলে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে গর্জে ওঠেন বিজেপি নেতৃত্ব।

সমাবেশ থেকে দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন নিতিন নবীন। তিনি সাফ জানান, এই দেশ কোনো অনুপ্রবেশকারীর জায়গা নয়। বিজেপি সভাপতির হুঙ্কার, “সারা দেশ থেকে বেছে বেছে প্রত্যেকটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশ ছাড়া করা হবে। দেশের নাগরিকদের অধিকার কোনোভাবেই বহিরাগতদের ভোগ করতে দেওয়া হবে না।”

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় এবং তৃণমূল জমানার অবসানের দিকে ইঙ্গিত করে নিতিন নবীন বলেন, “গোটা বাংলা আজ বিজেপিময়। গত ৪ মে বাংলায় দীর্ঘদিনের অরাজকতা, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটেছে। দিদি ক্ষমতা থেকে গিয়েছেন, আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে অরাজকতার নাম-নিশানও মুছে গিয়েছে।”

রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর দিল্লিতে গিয়ে বিরোধীদের ধর্না ও কান্নাকাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, “বাংলায় বিপুল ভরাডুবি ও পরাজয়ের পর এবার দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন মমতা দিদি। মানুষের আস্থা হারিয়ে এখন দিল্লির রামলীলা ময়দানে গিয়ে হারের হতাশা ও নিরাশার জন্য চোখের জল ফেলছেন তাঁরা।”

বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিরোধী শিবিরের কাছে সর্বদা ব্যক্তিস্বার্থ আগে এবং দেশ পরে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে ‘দেশ সবার প্রথমে, বাকি সব পরে’।” রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, রাহুলের নেতৃত্বে গোটা দেশে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা।

জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষা করাই বিজেপির মূল নীতি। ভোটের ফলাফল নিজেদের বিপক্ষে গেলেই বিরোধীরা ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ বলে যে মায়াকান্না জুড়ে দেয়, দেশের মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন। পরিশেষে তিনি এক নতুন স্লোগান তুলে বলেন, “বাংলাকে আমরা সফলভাবে মমতা-মুক্ত করেছি, এবার দিল্লি থেকে রাহুল-মুক্ত করার পালা।”