প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নির্বাচনের দামামা বাজতেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। কিন্তু নদিয়ার কালীগঞ্জে যা ঘটলো, তা নজিরবিহীন। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিলো সিপিএমের দলীয় কার্যালয়। কোনো বিরোধী পক্ষ নয়, বরং নিজেদেরই কর্মী-সমর্থকদের রক্তচক্ষু আর চরম তাণ্ডবে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল বামেদের অফিস। ঠিক কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বামেদের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। উল্লেখ্য, সাবিনা ইয়াসমিন হলেন ভোটে শহীদ হওয়া ছোট্ট তামান্নার মা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা ছিল, ‘শহীদ পরিবার’-এর প্রতি আবেগ কাজ করবে জনমানসে। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই উল্টো সুর শোনা গেল নিচুতলার কর্মীদের গলায়।
প্রার্থী হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিনের নাম মানতে নারাজ স্থানীয় সিপিএম কর্মীদের একাংশ। ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, একদল বিক্ষুব্ধ কর্মী সরাসরি ঢুকে পড়েন স্থানীয় সিপিএম পার্টি অফিসে। শুরু হয় চরম ভাঙচুর। চোখের পলকে উল্টে দেওয়া হয় বেঞ্চ, আছাড় মেরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক চেয়ার। টেবিল-আলমারি কিছুই বাদ যায়নি সেই তান্ডব থেকে। সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং বিড়ম্বনার দৃশ্য দেখা গেল অফিসের মেঝেতে। যে লাল পতাকাকে বামপন্থীরা তাদের আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতীক বলে মনে করেন, সেই সিপিএমের পতাকাই আজ ধুলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে। ক্ষুব্ধ কর্মীরা পতাকা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মীদের এমন ‘বিদ্রোহী’ রূপ দেখে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় নেতৃত্বের আবেগতাড়িত এই সিদ্ধান্ত তারা মানছেন না। তাদের দাবি, প্রার্থী নির্বাচনে সাধারণ কর্মীদের মতামতের তোয়াক্কা করা হয়নি। “যাকে আমরা চিনি না, যার সাথে সংগঠনের যোগ নেই, তাকে কেন প্রার্থী করা হলো?”—এই প্রশ্ন তুলেই আজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীগঞ্জ। এদিকে নিজেদের ঘরের কোন্দল এভাবে রাস্তায় চলে আসায় চরম অস্বস্তিতে জেলা বাম নেতৃত্ব। একদিকে যখন শাসক দল ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, তখন নিজেদেরই কর্মীদের এই রুদ্রমূর্তি দলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধ্বস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কালীগঞ্জের এই ‘গৃহযুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে এবং এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে আলিমুদ্দিন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আজকের এই দৃশ্য প্রমাণ করে দিলো, বাম দুর্গে ফাটল শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও বেশ গভীর।