প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক বিদ্রোহ এবং বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখানো নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই টিপ্পনী কাটলেন শ্রীরামপুরের ঘাসফুল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রতর মতো হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে কল্যাণ সাফ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি উল্টে অত্যন্ত আনন্দিত। একই সঙ্গে তাঁর নিশানায় এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের একাংশ।
পূর্ব বর্ধমানে আয়োজিত একুশে জুলাইয়ের সাংগঠনিক প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই প্রবীণ সাংসদ। সেখানে বীরভূমে অনুব্রতর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের চেনা মেজাজে আক্রমণাত্মক জবাব দেন কল্যাণ। অনুব্রত মণ্ডলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়াকে তীব্র উপহাস করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা যে অনুব্রতকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের দলে টেনে নিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত হ্যাপি।” বীরভূমের সাংগঠনিক রদবদলকে খোঁচা দেওয়ার পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমের নাম টেনেও ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি তিনি। এরই মাঝে শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর পাল্টা কটাক্ষ, “শুভেন্দু এখন এমন সব নীতি কথা বলছে যেন ও ধোঁয়া তুলসী পাতা।”
দলের সাম্প্রতিক ভাঙন এবং বিভ্রান্তির আবহে সাধারণ কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বড় বার্তা দিয়েছেন কল্যাণ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নানা কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ভীতি, পুলিশি হুমকি কিংবা নানামুখী রাজনৈতিক চাপের মুখেও যারা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে নড়েননি, তারাই হলেন তৃণমূলের প্রকৃত বুনিয়াদ ও আসল সৈনিক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যখন অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের জেলা সভাপতি করে সমান্তরাল সংগঠন খাড়া করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বয়ান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মূল তৃণমূল নেতৃত্ব যে দলত্যাগীদের কোনো বাড়তি গুরুত্ব দিতে রাজি নয় এবং এই বিদায়ে দল আদতে ‘ভারমুক্ত’ বোধ করছে, কল্যাণের এই চরম বিদ্রুপাত্মক অবস্থান থেকেই তা স্পষ্ট।