প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব কি তবে এবার প্রকাশ্য গোষ্ঠীযুদ্ধে রূপ নিল? দলটির প্রবীণ লোকসভা সাংসদ এবং প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন আক্রমণের পর, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে প্রবীণ নেতা ২৪ ঘণ্টা আগে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তাঁর রাগ ভাঙাতে এবার সুকৌশলে ‘বাৎসল্য রস’ ও ‘পারিবারিক আবেগ’ আমদানির চেষ্টা করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বেশ কিছুদিন ধরেই হচ্ছিল। তবে তা চরম আকার ধারণ করে কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের একটি হাইপ্রোফাইল ‘সই জালিয়াতি’ (Signature Forgery) মামলাকে কেন্দ্র করে। প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিষেকের হয়ে আইনি লড়াই লড়ছিলেন। কিন্তু শুনানির ঠিক শেষ মুহূর্তে কল্যাণবাবুকে অন্ধকারে রেখে অন্য এক জুনিয়র আইনজীবীকে মামলাটি সওয়াল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তীব্র অপমানিত বোধ করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি অভিষেকের সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্য ক্যামেরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে আলটিমেটাম ছুঁড়ে দেন— “হয় অভিষেককে বাছুন, নয় দলের অনুগতদের!”
দলের অন্দরে এই নজিরবিহীন বিতর্কের আবহে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কল্যাণের কড়া আক্রমণের জবাবে তিনি অত্যন্ত নরম সুর ধরেন। অভিষেক বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার থেকে বয়সে বড়। ওঁর নিজের মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আমাকে ছোটবেলা থেকে বড় হতে দেখেছেন। ওঁর মতো সিনিয়র নেতার কটু কথার বিরুদ্ধে আমি পাল্টা কিছু বলব না।”
তৃণমূলের এই প্রকাশ্য কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরের নেতাদের দাবি, বিজেপি দীর্ঘকাল ধরে যা বলে আসছে, আজ সেটাই সত্য প্রমাণিত হলো। তৃণমূল কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়, এটি স্রেফ পিসি আর ভাইপোর একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, যেখানে প্রবীণ ও যোগ্য নেতাদের কোনো সম্মান নেই। বিজেপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য, ক্ষমতার কুক্ষিগত করার লড়াইয়ে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ সামলাতে পিসি-ভাইপো এখন প্রবীণদের পায়ে ধরতেও রাজি, কিন্তু চোরেদের এই দুর্গের পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে এই বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার বা ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলেও, দলের ভেতরের ঠান্ডা লড়াই যে শেষ হয়নি তা স্পষ্ট। একদিকে দলের সিংহভাগ পুরোনো নেতা ও কর্মী নিজেদের কোণঠাসা ভাবছেন, অন্যদিকে নবীন প্রজন্ম ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। এই ক্ষমতার দড়িটানাটানি আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে ঠেলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।