প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলায় এবার আমূল বদলে গেল রাজ্য সরকারের অবস্থান। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনি লড়াইকে জোরদার করতে এবার সরাসরি পাশে দাঁড়াচ্ছে প্রশাসন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনে এসে এই নিয়ে এক নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারকে আইনি লড়াই লড়তে রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই সরকারি আইনজীবী (Government Lawyer) দেওয়া হবে।

শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, কামদুনি কাণ্ডে পূর্বতন সরকারের নেওয়া অবস্থান বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ খারিজ করছে। তাঁর কথায়, “কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। এতদিন এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে যে বিরোধিতা করা হচ্ছিল, বর্তমান সরকার তা আর করবে না। আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সম্পূর্ণ আইনি সহযোগিতা করব”। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রকের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত রাজ্যের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলকে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন নাম না করে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস জমানার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ তোলেন, বারাসত জেলা আদালতের দেওয়া ফাঁসি ও যাবজ্জীবনের সাজা যেভাবে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গিয়েছিল, তার পেছনে প্রপার মনিটরিংয়ের অভাব ছিল। তৎকালীন সরকার বারবার জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে আইনি কর্মকর্তা ও পাবলিক প্রসিকিউটর (PP) পরিবর্তন করেছিল, যার ফলেই আইনি ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছিল।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে বলেন, “এই সরকার কোনো অপরাধকেই ‘ছোট ঘটনা’ বা ‘লাভ অ্যাফেয়ার্স’ বলে হালকা করার চেষ্টা করবে না। অপরাধীদের চরম শাস্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য কোনো খামতি রাখবে না”।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর কামদুনি ফাইলস নতুন করে খোলার যে দাবি উঠছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা তাতে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করল। সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় এখন রাজ্য সরকার এবং বাদী পক্ষ একই সারিতে দাঁড়িয়ে অপরাধীদের সাজার দাবিতে সওয়াল করবে, যা এই মামলার ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।