প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার একটি পুরনো ঘটনার জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে শুরু হলো নজিরবিহীন তোলপাড়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইল খুলল পুলিশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনসভায় বাধা সৃষ্টি এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে তৃণমূলের তৎকালীন দুই হেভিওয়েট অঞ্চল সভাপতিসহ মোট ১০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা (FIR) রুজু করেছে কেশপুর থানার পুলিশ।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর স্থানীয় বিজেপি নেতা তারক জানার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেশপুর থানায় দায়ের হওয়া এই হাইপ্রোফাইল এফআইআর-এ খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং বোমাবাজির মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন-অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ১০ জনের তালিকায় রয়েছেন—তৃণমূলের তৎকালীন দুই প্রভাবশালী অঞ্চল সভাপতি এবং পিন্টু মিদ্যা, পিন্টু রানা, ভাস্কর চৌধুরী, সরফরাজ, স্বপন ঘড়াই, আমজাদ আলী, শাহদাত কাজী ও বৈরুদ্দিনের মতো দাপুটে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি কেশপুরের মোহবনিতে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসের একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার (SP) পাপিয়া সুলতানাকে সরাসরি মঞ্চে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় এই কেশপুরে আমাকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। মানুষ আসতে পারেনি, কিন্তু আমি এসেছিলাম। আমি কিচ্ছু ভুলিনি। মাননীয় এসপি, আপনি ওই ২০২৪-এর মামলাটা বের করুন। যারা জড়িত ছিল, আমি তাদের সবাইকে জেলে দেখতে চাই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারি এবং ‘জেল’ কলের পর নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা তারক জানার দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে কেশপুরে একটি মেগা জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, সেই সভায় সাধারণ মানুষকে আসতে বাধা দিতে এলাকা জুড়ে ব্যাপক বোমাবাজি ও সন্ত্রাস চালায় তৃণমূলের বাইক বাহিনী। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, বর্তমানে সরকার বদলের পর সেই পুরনো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই এই ১০ জন অভিযুক্তের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে কেশপুর থানার পুলিশ। এই ‘কেশপুর ফাইলস’ খোলার ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।