প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে সব চেষ্টা কি ব্যর্থ হয়ে গেল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আর কোনো চান্স নেই। তাই বিকল্প কোনো উপায় না বুঝে এবার সরাসরি অবস্থানে বসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। আসলে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখনই বোঝেন যে, প্রবল চাপ আসছে, তখনই পরিস্থিতিকে নিজের আয়ত্তে আনতে অবস্থান, আন্দোলনই তার একমাত্র সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। এমনিতেই এসআইআরের রেজাল্ট আউট হওয়ার পর প্রায় ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সেই তালিকাতেও প্রচুর মানুষের নাম বাদ যাওয়ার একটা আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন যে, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে। আর এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো চাপ আসতে পারে বুঝেই গিয়ে এবার শেষ পর্যন্ত ধর্নার সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

এই মুহূর্তের সবথেকে বড় খবর যে, এবার এসআইআরের বিরুদ্ধে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ মার্চ শুক্রবার দুপুর দুটো থেকে সেখানে ধর্না অবস্থানে বসবেন তিনি। আজ তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই ঘোষণা করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই খবর সামনে আসার পরেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা এবং রাজনৈতিক তরজা।

বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমতায় ফেরার আর কোনো বিকল্প উপায় নেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে, তাতে তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। এমনকি তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেও এবার হারতে পারেন। রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা এতটাই গ্রাস করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে, সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও তিনি এসআইআর যখন আটকাতে পারলেন না এবং প্রচুর নাম যখন বাদ যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও অনেক নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা চলছে, ঠিক তখনই আবার খবরের শিরোনামে থাকতে এবং হট্টগোল করে পরিস্থিতিকে নিজের আয়ত্তে আনতে নিজের শেষ চেষ্টাটা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই ধরনের নাটক করেও দিনের শেষে চিড়ে ভিজবে না। ২৬ এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শব্দ বসবে। আর এটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলেই দাবি করছেন পদ্ম শিবিরের নেতারা।