প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলা রাজনীতিতে এবার মহানাটুকে মোড়! গতকালই তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গোটা রাজ্যকে চমকে দিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার সেই আগুনে চরম ঘি ঢাললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কোয়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে সুকান্তবাবু যা ইঙ্গিত দিলেন, তাতে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মাত্র আড়াই মাস আগে গত এপ্রিল মাসে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু মেয়াদ ফুরনোর অনেক আগেই হঠাৎ তাঁর এই ইস্তফা ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, পদত্যাগ করার ঠিক আগেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন কোয়েল। তারপরই তড়িঘড়ি ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।
কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন। সুকান্তবাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এর আগে যেভাবে তিনজন সাংসদ ইস্তফা দিয়ে আবার সাংসদ পদে ফিরে এসেছেন, উনিও (কোয়েল মল্লিক) সেইভাবেই ফিরে আসবেন।”কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই একটি মন্তব্যেই এখন পরিষ্কার যে, ঘাসফুল শিবির ছেড়ে কোয়েলের পদ্মবনে যাওয়ার পথ প্রায় পাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদার আসলে তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁরাও কিছুদিন আগে তৃণমূল এবং রাজ্যসভার পদ ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এবং বিজেপি তাঁদের আবার রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে। সুকান্তবাবুর ইঙ্গিত অনুযায়ী, কোয়েল মল্লিকও খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিতে চলেছেন এবং বিজেপির টিকিটেই ফের দেশের উচ্চকক্ষে পা রাখবেন। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই কোয়েল মল্লিক ক্ষোভ চেপে রেখেছিলেন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য বিজেপির শক্তি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত তিনি আগে থেকেই নিয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। এখন দেখার, ঠিক কোন মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে যোগ দেন কোয়েল মল্লিক। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা বাংলা।