প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বছর শেষ হওয়ার আগেই বাজতে চলেছে কলকাতা পুরসভার (KMC) নির্বাচনের দামামা। আর তার ঠিক আগেই আজ এক নজরকাড়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আবহের মধ্যে দাঁড়িয়ে পুর বাজেট পেশ করতে চলেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের এটিই প্রথম বড় পুর বাজেট হতে চলেছে, যার মূল ভাবনা— ‘স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন’। কিন্তু এই সোগানের আড়ালে লুকিয়ে আছে একাধিক কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

শহরের ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে নতুন সরকারের জমানায় যেভাবে কড়া আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে, তাতে হকারদের মনে তীব্র ভীতি তৈরি হয়েছে। আজ বাজেটে বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদের বিষয়ে বড় কোনো রূপরেখা আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কলেজ স্ট্রিট, গড়িয়াহাট ও পার্ক স্ট্রিটের মতো এলাকায় ইতিমধ্যেই পরিদর্শন সেরেছেন মন্ত্রী স্বয়ং। সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা ফাঁকা করা এবং বেআইনি দখলদারদের চিহ্নিত করতে টাউন ভেন্ডিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখে কি নরম হবে সরকার, নাকি নজিরবিহীনভাবে চলবে বুলডোজার? বাজেট বক্তৃতার দিকেই তাকিয়ে আছেন লক্ষাধিক হকার।

পূর্বতন তৃণমূল বোর্ডের আমলের একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নতুন প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এই পরিস্থিতিতে আজ বাজেটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশেষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা কঠোর ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হতে পারে বলে গুঞ্জন নবান্নে। কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ কিংবা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ রুখতে ঠিক কী কড়া অবস্থান নিচ্ছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তার ওপরেই নজর থাকবে আমজনতার। এছাড়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সরাসরি শুনতে চালু হওয়া ‘মুখোমুখি’ পোর্টালের মাধ্যমে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাও স্পষ্ট হতে পারে আজ।

কলকাতা পুরসভার কাজের সুবিধার জন্য ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের জমানায় কেন্দ্রীয় ফান্ডের সহযোগিতায় কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে কত টাকার মেগা বরাদ্দ করা হচ্ছে, তা আজ বড় চমক হতে পারে। সব মিলিয়ে আজকের এই পুর বাজেট কেবলই একটি আর্থিক খতিয়ান নয়, বরং আসন্ন পুরভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।