প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরের ফাটল এবং তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার আছড়ে পড়ল খোদ নতুন বিধানসভার অলিন্দে। অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই বিদ্রোহী বনাম মমতাপন্থী তৃণমূলের সম্মুখ সমরে তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। নতুন শাসক দল বিজেপির প্রথম অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালীন বেলেঘাটের মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি নিশানা করেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা তথা স্পিকার অনুমোদিত বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একসময়ের সতীর্থদের এই ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুড়ি ও চরম সংঘাতের জেরে অধিবেশন কক্ষ কিছুক্ষণের জন্য কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
এদিন বক্তব্য রাখতে উঠেই মমতাপন্থী শিবিরের পক্ষে কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণাত্মক মেজাজে আক্রমণ শানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। স্পিকারের অনুমোদন নিয়ে বিরোধী দলনেতার আসনে বসা ঋতব্রতবাবুকে সরাসরি ‘ব্যাকডোর’ (পিছনের দরজা থেকে আসা) এবং ‘মেরুদণ্ডহীন’ নেতা বলে কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যারা অন্য শিবিরের মদতে ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নেয়, তাদের মুখে আদর্শের কথা মানায় না। কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের সাথে সাথেই বিধানসভার অন্দরে তীব্র বাদানুবাদ এবং চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়।
রাজনৈতিক আক্রমণের সীমা ছাড়িয়ে লড়াই দ্রুত ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুড়ির স্তরে পৌঁছে যায়। কুণাল ঘোষ আকস্মিকভাবেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বালুরঘাটের একটি পুরোনো ফৌজদারি মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কুণাল সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে একজন ধর্ষণের মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মতো একটি সম্মানীয় এবং সাংবিধানিক পদে বসতে পারেন?” খোদ একদা সতীর্থের মুখ থেকে এই ধরণের চরম ব্যক্তিগত ও বিস্ফোরক আক্রমণ ধেয়ে আসায় স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভার অন্দরে যখন দুই তৃণমূল নেতার এই সম্মুখ সমর এবং নজিরবিহীন কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছিল, তখন ট্রেজারি বেঞ্চে বসা নতুন শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিধায়করা পুরো বিষয়টি উপভোগ করেন। বিজেপি বিধায়কদের মতে, বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে যে রায় দিয়েছেন, তা কতটা সঠিক ছিল, তা আজ তৃণমূলের এই প্রকাশ্য গৃহযুদ্ধেই প্রমাণিত। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের দুই শিবিরের এই কুৎসিত লড়াই গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করছে বলে দাবি করে নতুন শাসক দল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ উভয় পক্ষকেই সংযত হতে এবং সংসদীয় সৌজন্যতা বজায় রাখার আর্জি জানান।