প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খাতায়-কলমে তিনি এখন বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রথম সারির নেতা। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে তিনি যে এখনও ‘কালারফুল’ এবং তাঁর মন যে আসলে কোথায় পড়ে রয়েছে, তা দলবদলের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল। বিধানসভা চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের (কালীঘাট-তৃণমূল) ধরনা মঞ্চে আচমকা মদন মিত্রের আগমন এবং তাঁকে ঘিরে কুণাল ঘোষের এক একটি মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। কুণালের এই বিস্ফোরক দাবি কি কেবলই রাজনৈতিক শ্লেষ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো গভীর রাজনৈতিক চাল?
শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর থেকে বেরিয়েই সোজা মমতাপন্থীদের ধরনা কর্মসূচির দিকে হাঁটা লাগান কামারহাটির বিধায়ক। সেখানে মদন মিত্রকে পাশে দাঁড় করিয়েই কার্যত বোমা ফাটান কালীঘাট-তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। হাসতে হাসতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, “আমরা শুধু এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের (বিরোধী শিবির) মধ্যে রইল।”
কুণাল ঘোষের এই ‘ভেতরের লোক’ বা ‘স্পাই’ তত্ত্বের পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কুণাল ঘোষ অত্যন্ত সুকৌশলে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, মদন মিত্রের এই দলবদল আদতে কোনো আদর্শগত কারণে নয়, বরং কেন্দ্রীয় এজেন্সির (ইডি) প্রবল চাপের মুখে পড়ে নেওয়া এক বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত।
এদিন কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই দাবি করেন, কাপুরুষের মতো ইডি দিয়ে মদন মিত্রের স্ত্রী ও ছেলেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মদনদা শারীরিকভাবে হয়তো ওইদিকে গিয়েছেন, কিন্তু ওঁর মন অন্য দিকে পড়ে আছে। আমরা চাই মদনদা ভাল থাকুন, দু-চার দিন যা মন চায় প্রাণ চায় বলুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কুণালের এই মন্তব্য আসলে ঋতব্রত শিবিরের ওপর এক চরম মনস্তাত্ত্বিক আঘাত। মদন মিত্রকে ‘নিজেদের লোক’ বলে দাবি করে কুণাল ঘোষ আদতে বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরেই একটি সন্দেহের বীজ বুনে দিলেন, যা ঋতব্রত-তৃণমূলের অভ্যন্তরে মদন মিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিতে পারে।
কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবির মুখে দাঁড়িয়েও অবশ্য মেজাজ হারাননি মদন মিত্র। নিজের চেনা রসিকতা বজায় রেখেই তিনি পাশে থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমি চাই শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনে বসুক।” আর কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে হেঁয়ালি মিশিয়ে বলেন, “আমার মনে হচ্ছে ওর (কুণাল) মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়ি আসছে।”
তবে কুণাল ঘোষের মন্তব্যের সরাসরি কোনো জোরালো প্রতিবাদ মদন মিত্রকে করতে দেখা যায়নি। ফলে, তিনি কি সত্যিই এজেন্সির ভয়ে অন্য শিবিরে গিয়েও পুরনো দলের হয়ে ‘সুপারি’ খেলছেন, নাকি এটি কুণাল ঘোষের সাজানো কোনো চাল—তা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য।