প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে ২৪ ঘণ্টাও কাটছে না নতুন কোনো চমক ছাড়া। গত বুধবারই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছেড়ে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কিন্তু সেই দলবদলের মাত্র দুদিনের মাথায়, শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে ঘটল এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের (কালীঘাট-তৃণমূল) ধরনা কর্মসূচিতে আচমকা সশরীরে হাজির হলেন মদন মিত্র! আর তাঁকে দেখেই প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষের এক একটি মন্তব্যকে ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
শুক্রবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর থেকে বেরিয়েই সবাইকে চমকে দিয়ে সোজা ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের ধরণা মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান মদন মিত্র। সেখানে সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনের সমর্থনে ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূল বিধায়করা। প্রাক্তনীকে নিজেদের মঞ্চে দেখে উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যেও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। কোনো জড়তা না রেখেই বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে খোশমেজাজে আড্ডা ও সৌজন্য বিনিময় শুরু করেন কামারহাটির বিধায়ক।
মদন মিত্রকে নিজেদের মাঝে পেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করতে ছাড়েননি কালীঘাট-তৃণমূলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে মদন মিত্রকে পাশে দাঁড় করিয়ে হাসতে হাসতে কুণাল বলেন, “মদনদা শারীরিকভাবে হয়তো ওইদিকে গিয়েছেন, কিন্তু ওঁর মন অন্য দিকে পড়ে আছে! কাপুরুষের মতো ইডি দিয়ে ওঁর স্ত্রী আর ছেলেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা চাই মদনদা ভাল থাকুন, দু-চার দিন যা মন চায় প্রাণ চায় বলুন। আমরা শুধু এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের (বিরোধী শিবির) মধ্যে রইল।”
কুণাল ঘোষের এই ‘স্পাই’ বা ‘ভিতরের লোক’ তকমা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয় যে, তবে কি মদন মিত্রের এই দলবদল কেবলই এজেন্সির চাপ এড়ানোর কৌশল?