প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০ জন সাংসদ এক ঝটকায় দিল্লির এনডিএ (NDA) শিবিরের নতুন শরিক ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র পতাকা ধরতেই এক লহমায় স্পষ্ট হয়ে গেল একদা অপরাজেয় দাবি করা শিবিরের ভেতরের কঙ্কালসার চেহারাটা। যে দলের পায়ের তলা থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক মাটি ক্রমশ সরে যাচ্ছে, তাদেরই এক সেনাপতি কুণাল ঘোষের ফেসবুক ওয়ালে আজ সকালে আছড়ে পড়ল তীব্র হতাশার এক দীর্ঘশ্বাস। কুণালবাবু ফেসবুকে লিখেছেন, ২০ জন নাকি ‘বাঘিনীর ছাতা’ ছেড়ে ‘ব্যাঙের ছাতার তলায়’ আশ্রয় নিয়েছেন! প্রশ্ন হলো, যে নেতৃত্বের ছায়াকে আপনারা এতকাল বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করতেন, সেই খাঁচা ছেড়ে একযোগে ২০ জন সাংসদ কেন পালিয়ে বাঁচতে চাইলেন? কেন দিল্লির দরবারে গিয়ে স্পিকারের হাত ধরে বলতে বাধ্য হলেন, “আমরা আর এই ডুবন্ত নৌকার সওয়ারি হতে চাই না”? কুণাল ঘোষের এই ‘ব্যাঙের ছাতা’র তত্ত্ব আসলে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার শেষ মরণকামড় ছাড়া আর কিছুই নয়।

কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্টের ছত্রে ছত্রে ধরা পড়েছে তীব্র রাজনৈতিক হতাশা। কুণালবাবুর দাবি, বিজেপি নাকি দরজা খোলেনি, তাই নাকি এই অখ্যাত দলের আশ্রয়! অথচ বাস্তব বলছে, দিল্লির চাণক্য নীতিতে এই ২০ সাংসদের পা রাখা আসলে দিল্লির বুক থেকে তাঁদের ক্ষমতা পুরোপুরি মুছে দেওয়ার প্রথম ধাপ। যে শিবিরের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসা আর দুর্নীতির চাদরে বাংলার জনমতকে দিনের পর দিন লুণ্ঠন করার অভিযোগ উঠেছে, আজ তাদের মুখেই ‘জনমতের অবমাননা’র তত্ত্ব যেন ভূতের মুখে রামনাম! বাংলার মানুষ যে মোদীজির বিকাশের রাজনীতির পক্ষে, তা এই ২০ সাংসদের দলবদলই প্রমাণ করে। কুণালবাবুর এই খোঁচা আসলে নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। যখন জাহাজ ডোবে, তখন নাবিকের ভুলে নয়, জাহাজের ফুটো দেখেই বুদ্ধিমানরা সরে দাঁড়ায়। সাংসদদের এই পদক্ষেপ দলত্যাগ বিরোধী আইনের আইনি লড়াইয়ের নিখুঁত কৌশল মাত্র।

রাজনৈতিক প্রভাব চলে যাওয়ার পরেও অহংকারটা যে এখনও যায়নি, তা কুণাল ঘোষের পোস্টেই প্রমাণিত। কিন্তু কুণালবাবু, একটা কথা সোজা ভাষায় বলুন তো— সেই ছাতাটা আজ গেল কোথায়? কেন নিজের ঘরের ২০ জন সাংসদকে আটকে রাখার নূন্যতম ক্ষমতাটুকুও আপনাদের শীর্ষ নেতৃত্বের থাকল না? আজ বাংলার মানুষ বুঝে গেছে, যাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে, তাদের দিল্লির মাটি কামড়ে পড়ে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আজকের এই মহামিছিল আর দলবদল শুধু একটা টেকনিক্যাল সংখ্যার খেলা নয়। এটা প্রমাণ করে দিল, দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের হাত শক্ত করতেই এই ২০ জন সাংসদ আজ সঠিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর কুণাল ঘোষরা? তাঁরা এখন শুধু ফেসবুকের দেওয়ালে বসে ক্ষোভপ্রকাশ আর কবিতার মাধ্যমে নিজেদের সান্ত্বনা দিতে পারেন।