প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তুমুল শোরগোল ফেলে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাম্প ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই এক নজিরবিহীন ‘সেটিং-তত্ত্ব’ খাড়া করলেন তিনি। দলবদল বা শিবির বদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের চেনা মেজাজে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই হেভিওয়েট নেতা। তৃণমূলের মূল শিবির থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বিদ্রোহী জোটে নাম লেখানোর পর মদন মিত্রের এই কড়া বয়ান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সরাসরি নাম না করে এক বড়সড় সেটিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন মদন মিত্র। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও ক্ষমতা বদলের আবহে তাঁর সাফ কথা, “ভালো আর কালোর মধ্যে সেটিংয়ের খেলা চলছে।” রাজনৈতিক দলগুলির ভেতরের সমীকরণ এবং বোঝাপড়া নিয়ে যে তিনি একেবারেই সন্তুষ্ট নন, তা তাঁর এই চাঁছাছোলা মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট।

রাজ্যে একের পর এক নেতার শিবির বদল বা দলবদল নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “শিবির বদলে মানুষ আগ্রহী নয়, নতুন সরকার কী করে সেই নিয়ে আগ্রহী।” অর্থাৎ, কোন নেতা কোন ঘরে গেলেন তা বড় কথা নয়, সাধারণ মানুষের নজর এখন স্রেফ নতুন সরকারের নীতি ও কাজের ওপর।

রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাশীল সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন মদন মিত্র। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই সরকার যদি পরে আগের পথের পথিক হয়, তাহলে তার সম্পর্কেও ভালোভাবে নেবে না মানুষ।” বিগত জমানার ভুলত্রুটি বা দুর্নীতির পথ যদি নতুন সরকারও অনুসরণ করে, তবে বাংলার জনগণ যে তাদেরও রেয়াত করবে না, সেই বার্তাই আগাম দিয়ে রাখলেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং এই মুহূর্তে তাঁর মানসিক অবস্থান স্পষ্ট করে মদন মিত্র দাবি করেন, “রাজনীতি থেকে দূরে থাকাই লক্ষ্য।” দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে কোণঠাসা থাকা এবং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার আবহে তাঁর মুখে এই ‘রাজনীতি থেকে দূরত্বের’ কথা নতুন এক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাওয়ার পর মদন মিত্রের এই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের অন্দরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু করে দিয়েছে।