প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন হাই-প্রোফাইল বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে এবার খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক তথা ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের প্রবীণ নেতা মদন মিত্র। দিল্লিতে যখন দলীয় নাম ও জোড়া ফুল প্রতীকের আইনি দখল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দরবারে দুই শিবিরের হাই-ভোল্টেজ রুদ্ধদ্বার শুনানি চলছে, ঠিক তখনই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন তিনি। মদন মিত্র স্পষ্ট ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ভোটচুরি করে হারানো হয়েছিল—এই তত্ত্ব যদি সত্যি হয়, তবে মমতা এবার উপনির্বাচনে একা দাঁড়িয়ে তা প্রমাণ করে দেখান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বকীয় ভঙ্গিতে মদন মিত্র বলেন, “বলা হয় একুশের নির্বাচনে নাকি নন্দীগ্রামে ভোটচুরি করে হারানো হয়েছিল। তাহলে এবার উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রার্থী হোন। যেখানে যা আছে, আপনার সর্বশক্তি দিয়ে নামান। প্রমাণ করুন যে আপনাকে ভোটচুরি করেই হারানো হয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, বিদ্রোহী ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের নেতারা সবাই মিলে একটি অত্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান, তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল অফিশিয়াল তৃণমূল সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দেবে না। অর্থাৎ, তৃণমূল সুপ্রিমোকে কার্যত ফাঁকা মাঠে একা লড়াই করার জন্য এক অভিনব রাজনৈতিক ফাঁদ পাতা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ঋতব্রত শিবিরের এই কৌশলী ‘সমর্থন’-এর আড়ালে আসলে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক চাল। আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য যখন দুই পক্ষই কোমর বাঁধছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার জন্য উস্কে দিয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা আবু তাহেরও মদন মিত্রের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দলের সুদিনে যখন স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তখন দুর্দিনেও তাঁরা আর অন্য কোনো প্রার্থীর হয়ে ভোট বৈতরণী পার করতে নামবেন না। যদি লড়তেই হয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এসে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে তাঁর জনপ্রিয়তার শেষ পরীক্ষা দিন। দিল্লির নির্বাচন কমিশনের শুনানির পাশাপাশি মদন মিত্রের এই তীব্র আক্রমণ বাংলার রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি করল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।