প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভিতরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর! এমনকি চিকিৎসাধীন অসুস্থ রোগীদের কামড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। আর সেই ইঁদুরের তাণ্ডব থেকে রোগীদের বাঁচাতে অভিনব ও নজিরবিহীন দাওয়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। খোদ মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (MMCH) ট্রমা সেন্টারের ওয়ার্ডে রোগীদের বেডের ঠিক পাশেই পেতে রাখা হয়েছে ইঁদুর ধরার খাঁচা বা বিশেষ যন্ত্র! উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান এই সরকারি হাসপাতালের এমন ভয়ানক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের এই চরম অব্যবস্থা নিজের চোখে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইংরেজবাজার বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক তথা বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখার পর তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকাকে তীব্র আক্রমণ করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের ঠিক মাথার ও পায়ের কাছে লোহার খাঁচা পাতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক। তিনি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “হাসপাতালের ভিতরের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। রোগীদের বেডের পাশে খাঁচা পেতে রাখা হয়েছে মানে মালদা মেডিক্যালে ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রব রয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। এই শোচনীয় বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানানো হবে।” তিনি অবিলম্বে এই নোংরা পরিবেশ দূর করে হাসপাতালকে ইঁদুরমুক্ত করতে এবং রোগীদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেন।

মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে যে ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রব রয়েছে, তা সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন মালদা মেডিক্যালের সহকারী অধ্যক্ষ তথা সুপার প্রসেনজিৎ বর। তবে বেডের পাশে খাঁচা রাখা নিয়ে তিনি রোগীদের সুরক্ষার যুক্তি দিয়েছেন। সুপার প্রসেনজিৎ বর জানান, “আমরা পেস্ট কন্ট্রোল করিয়েছি, তাতেও ইঁদুরের উৎপাত কমেনি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। রোগীদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় এবং ইঁদুর কামড়াতে না পারে, সেই জন্যই বেডের পাশে ইঁদুর ধরার যন্ত্র রাখা হয়েছে।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, ফলস সিলিং থাকার কারণে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সাফাই কর্মীদের সমস্যার কারণে পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিযোগ, রাতের বেলা মেঝে, বেড এবং রোগীদের গায়ের ওপর দিয়ে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করে। যেখানে হাসপাতালে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত বা স্যানিটাইজড পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে বেডের পাশে ইঁদুরের খাঁচা রাখা রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।