প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল ও ভাঙনের জেরে চেনা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) হওয়ার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পর আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের জন্যও নতুন নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবার থেকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (Mamata All India Trinamool Congress) নামে পরিচিত হবে এবং তাদের নতুন নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল’ (Football)।আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে কমিশনের এই মেগা ঘোষণা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিল।
তৃণমূলের অন্দরে প্রতীকী লড়াই এবং আইনি টানাপোড়েনের পর নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির দুপুরের দিকে তাদের দল ও প্রতীক পাওয়ার পর, আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জমা দেওয়া তালিকা খতিয়ে দেখে এই চূড়ান্ত অনুমোদন দিল ইসিআই (ECI)। দলনেত্রীর নামকে সামনে রেখেই নতুন দলের নাম রাখা হয়েছে এবং বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা ‘ফুটবল’-কে প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন দল ও প্রতীককে স্বাগত জানিয়েছে মমতা শিবির। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ইতিমধ্যেই ফুটবল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে শুরু করেছেন।কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, “নাম বা প্রতীক কেড়ে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা এবার নতুন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়েই মানুষের দরবারে যাব এবং বিরোধী সব শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করব।”
নির্বাচন কমিশনের এই জোড়া ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে একদিকে থাকছে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা শাসকদল বিজেপি, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: খাম), এবং তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: ফুটবল)। জোড়াফুল শিবিরের ভোটব্যাঙ্ক এখন কোন দিকে যায় এবং এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসে, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।