প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের নাম ও প্রতীক কার দখলে থাকবে তা নিয়ে আইনি লড়াই যখন দিল্লির নির্বাচন সদনে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই মোক্ষম চাল চাললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেলে সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্রোহী শিবির ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একযোগে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। নিজের চেনা আগ্রাসী মেজাজে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার জল্পনা এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন মমতা।
লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতিপক্ষের সুবিধার্থে যদি নির্বাচন কমিশন কোনো একতরফা সিদ্ধান্তও নেয়, তাতে তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বে বিন্দুমাত্র টান পড়বে না। প্রতিবাদের সুরে তিনি বলেন, “আপনাদের পক্ষে সরকার আছে, তাই নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে আপনারা প্রতীক কেড়ে নিতেই পারেন, তাতে আমাদের কী যায় আসে! ভ্যানিশ কুমার যদি আপনাদের ঘাসফুল প্রতীক দিয়েও দেয়, তবে সাধারণ মানুষ সেটা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করছে কিনা সেটাই দেখার।”
দলের বিদ্রোহী অংশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশন কোনো সরকারি কাগজ বা দলীয় প্রতীক হয়তো কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও জনসমর্থন কেড়ে নেওয়া অসম্ভব। ঘাসফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, “এই প্রতীক কেড়ে নিয়ে আপনারা কি আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন? কণ্ঠরোধ করতে গেলে আপনাদের আমায় প্রাণে মেরে ফেলতে হবে।” আজকের এই লাইভের পর স্পষ্ট যে, প্রতীক খোয়ানোর আইনি ভয়কে পাশে সরিয়ে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জনতার দরবারে লড়াইয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।