প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে ২১শে জুলাইয়ের আগের রাতে তৃণমূলের সভামঞ্চ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু মুখের কথায় বা রাজনৈতিক বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, এবার সরাসরি আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছেন তিনি। গতকাল রাতেই খোদ তৃণমূল নেত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই বর্বরোচিত হামলার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। আর এই আইনি যুদ্ধে তাঁর প্রধান সেনাপতি হতে চলেছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কল্যাণকে সাথে নিয়ে আদালতে হাজির থাকবেন বলে গতকাল রাতে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
আদালতের আইনি রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও খোদ কলকাতার বুকে এই ধরনের তাণ্ডব চলায় পুলিশের ভূমিকা এবং বিরোধীদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতে ক্ষুব্ধ নেত্রী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আদালতের নির্দেশ মেনে সভার প্রস্তুতি চলছিল। এরপরেও কীভাবে এই হামলা হলো? আমি আর ছেড়ে কথা বলব না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাথে নিয়ে আমি নিজে এবার আদালতে যাব।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে। কারণ খোদ তৃণমূল নেত্রীর আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার এই হুঁশিয়ারি নজিরবিহীন।
আদালতের স্পষ্ট অনুমতি থাকার পরেও সভাস্থলে এই হামলা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই আইনি খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘিত থাকায় পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোর্ট কনটেম্পট বা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
একদিকে মাঠে-ঘাটে রাজনৈতিক লড়াই, আর অন্যদিকে আদালতে খোদ মমতা-কল্যাণ জুটির আইনি আক্রমণ— সব মিলিয়ে এই মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এক মারাত্মক আইনি যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে।