প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার আইনি লড়াই গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। দল ভেঙে পৃথক শিবির গঠন করা ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে ফের একবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা শিবিরের বর্ষীয়ান নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দায়ের করে নতুন করে এই আইনি লড়াই শুরু করেছেন। এই মামলায় সরাসরি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে এবং ওই ১০ বিধায়ককে পক্ষ করা হয়েছে।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা একাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে বিরোধী শিবিরের দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক জোট গঠন করেন। দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের পদ খারিজের দাবিতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ স্পিকারের কাছে প্রথম আবেদন জানিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশিকায় আশা প্রকাশ করেছিল যে, স্পিকার ৩ মাসের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিধানসভার স্পিকারের তরফ থেকে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না আসায় ফের শীর্ষ আদালতের কড়া নাড়ল কালীঘাট শিবির।

দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় যাদের পদ খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে, তাঁরা হলেন: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা), ফিরহাদ হাকিম (কলকাতার প্রাক্তন মেয়র), অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ আহমেদ খান, রথীন ঘোষ।

মমতা শিবিরের এই আইনি পদক্ষেপের পরই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (DTC)। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তাঁদের শিবিরের সঙ্গেই রয়েছেন এবং গণতান্ত্রিক উপায়েই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। মমতা শিবির স্রেফ রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং প্রচারের আলোয় ফিরতে বারবার আদালতের সময় নষ্ট করছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাঁরা এখন আদালতের পিছন দরজা দিয়ে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার অলীক স্বপ্ন দেখছেন বলেও কটাক্ষ করেছে ক্ষুব্ধ শিবির। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই মূল তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে রেখেছে। একদিকে মমতা শিবির ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে এবং অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির ওপরই নির্ভর করছে বাংলার ১০ বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।