প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় ধস। যে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ একসময় কোচবিহারে তৃণমূলের শেষ কথা ছিলেন, আজ তাঁকেই ব্রাত্য করে দিল দলো। টিকিট না পেয়ে একরাশ ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে কার্যত রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন নাটাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক। রবি ঘোষের এই আক্ষেপ এখন কোচবিহারের রাজপথ থেকে অলিগলি, সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক মহলের মতে, রবি ঘোষকে সাইডলাইন করা আসলে কোচবিহারে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার সামিল। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ভেঙে পড়েন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, “ভাবতে পারিনি দল টিকিট দেবে না। তুফানগঞ্জ থেকে দাঁড়ানোর কথা বলেছিল দল, কিন্তু আমি নাটাবাড়ি থেকেই লড়তে চেয়েছিলাম। সম্মানের সঙ্গে অবসর নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা আর হলো না।” তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, দলে এখন আর তাঁর মত পুরনো সৈনিকদের কোনো দাম নেই।

আর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই বিষয়টিই এখন তৃণমূলের কাছে সব থেকে বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন যে, এই ঘটনায় কেন চাপে ঘাসফুল শিবির? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এই ‘বিদ্রোহ’ বিজেপির জন্য কোচবিহারে জমি আরও শক্ত করে দিলো। কেননা পরিসংখ্যান বলছে, কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অনেক আগেই। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নাটাবাড়ি আসনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জয়ী হয়েছিলেন প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে বিজেপির মিহির গোস্বামীর ঝড়ে উড়ে যান তিনি। বিজেপির ভোট শতাংশ একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশে। যেখানে রবি ঘোষের ভোট কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪২ শতাংশে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটের নিরিখে কোচবিহারের বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে বিজেপি লিড বজায় রেখেছে। রবি ঘোষের মত প্রভাবশালী নেতাকে বসিয়ে দেওয়ায় তাঁর অনুগামীরা এখন হয় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন, না হয় ‘তলে তলে’ বিজেপির পদ্ম শিবিরের পালে হাওয়া দেবেন— এটাই এখন তৃণমূলের সবথেকে বড় ভয়। বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টিকে ‘পিসি-ভাইপোর অহংকার’ হিসেবেই দেখছে। বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, “যাঁরা দলটা তৈরি করেছিলেন, তাঁদের আজ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করা হচ্ছে। তৃণমূল এখন কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। রবি ঘোষের মত নেতার এই অপমান আসলে উত্তরবঙ্গের মানুষের অপমান।” অনেকে বলছেন, কোচবিহারে রাজবংশী ভোট এবং পুরোনো তৃণমূল কর্মীদের আবেগে রবি ঘোষের একটা বড় প্রভাব আছে। তিনি যদি নির্দল হিসেবে দাঁড়ান বা নিষ্ক্রিয় থাকেন, তবে নাটাবাড়ি এবং তুফানগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের ভোট শেয়ার আরও ৪-৫ শতাংশ কমতে পারে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন রবি ঘোষ, বদলে পেলেন ‘তাচ্ছিল্য’। উত্তরবঙ্গের এই হেভিওয়েট নেতার চোখের জল কি আগামী নির্বাচনে তৃণমূলকে ডুবিয়ে ছাড়বে? সময় বলবে। তবে কোচবিহারে এখন একটাই গুঞ্জন— “রবি অস্তমিত, এবার কোচবিহারে পদ্মই নিশ্চিত।”