প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা সবংয়ের হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা মানস ভুঁইয়া। গ্রেফতারি এড়াতে আজ, বুধবার (২৪ জুন) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তিনি আইনি সুরক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে খবর, আগামী কাল (২৫ জুন) এই মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি চাকরির নামে প্রতারণার মামলায় পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তারপর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। অবশেষে আজ সরাসরি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়ে আইনি লড়াইয়ের রাস্তা বেছে নিলেন সবংয়ের এই প্রাক্তন বিধায়ক।

ঘটনার সূত্রপাত সবং থানার তেমাথানী এলাকার সেচ দপ্তরের একটি বাংলোর (Temathani Irrigation Bungalow) নিয়োগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং-এর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে ওই বাংলোয় তত্ত্বাবধায়কের (Steward) চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মদতে এবং কিছু স্থানীয় নেতার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়। ১ মার্চ ২০২৬ থেকে ওই মহিলা কাজ শুরু করলেও, মাত্র দু’মাস পর অর্থাৎ ৬ মে তাঁকে আকস্মিকভাবে কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সুবিচারের আশায় ওই মহিলার স্বামী সবং থানায় মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হতেই কলকাতা হাইকোর্টে ছোটেন নেতা।

এই মামলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বর্তমান বাংলার অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক মোড়। গত ১৩ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন মানস ভুঁইয়া। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, দল ছাড়ার পরও তাঁর কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছিল। তৃণমূল ত্যাগের ঠিক পরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই পুরনো প্রতারণার মামলা পুনরুজ্জীবিত হওয়া এবং পুলিশের নোটিশ পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি যাতে গ্রেফতার না হন, তার জন্যই তড়িঘড়ি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সুরক্ষাকবচের আবেদন করেছেন। আগামী কাল বা চলতি সপ্তাহের শেষে আদালত এই আবেদনে সাড়া দিয়ে মানস ভুঁইয়াকে কোনও আইনি রক্ষাকবচ দেয় কি না, নাকি পুলিশের তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়— এখন সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজ্যের।