প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক মহিলার তোলা পুরনো যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দিল্লি। বালুরঘাটের এক মহিলার করা সেই পুরনো মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পাঠানো সেই অফিশিয়াল চিঠির প্রতিলিপি প্রকাশ করে এই দাবি করেছেন বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, জন্মাষ্টমীর দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে পাঠানো সেই চিঠির কপি তাঁর হাতে এসে পৌঁছেছে এবং তিনি খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে নিজে দেখা করবেন।
দলীয় সমীকরণের জটিলতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন কুণাল ঘোষ। ঋতব্রতর এই নিয়োগের বিরোধিতা করে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দু’পাতার একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “বালুরঘাটের মহিলার অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য, নথি ও ছবি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।” তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর এই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁর দফতরকে দিয়ে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে বিষয়টি ‘যথাযথভাবে’ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ওই চিঠিতে রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার একটি রিপোর্ট অভিযোগকারী বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও পাঠানো হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই চিঠির পর ঋতব্রতর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, “ঋতব্রতর বিরুদ্ধে তদন্ত কীভাবে করাতে হয়, এবার সেই পর্ব শুরু।” এই মামলার গভীরে যাওয়ার দাবি তুলে তিনি পোস্টে স্পষ্ট লিখেছেন, “আমি কেস রি-ওপেন করার দাবি রেখেছি। মহিলার কী হল, মৃত্যু হয়ে থাকলে তার প্রকৃত কারণ কী, এখন এসব দেখতে হবে।” তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি আশা করেন রাজ্য সরকার ঋতব্রতকে আড়াল করার কোনও চেষ্টা করবে না এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর তিনি নিজে কড়া নজর রাখবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বালুরঘাট থানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও শোষণের অভিযোগে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID) এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলবদলের ডামাডোলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ। বর্তমানে বিরোধী দলনেতা হওয়া ঋতব্রতর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই তদন্তের নির্দেশ নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত ব্যানার্জি বা তাঁর শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।