প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক চরম নাটকীয় এবং রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল সোদপুর! গভীর রাতে যখন গোটা এলাকা নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই খড়দহের পানিহাটি এলাকার হেভিওয়েট তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিলাসবহুল বাড়ি লক্ষ্য করে চলল অতর্কিত হামলা। একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চারদিক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাক্তন বিধায়কের বসতভিটা ঢেকে গেল ঘন কালো ধোঁয়ায়। রবিবার মাঝরাতের এই হাড়হিম করা বোমাবাজির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দুটি মোটরবাইকে করে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী সোদপুরে নির্মল ঘোষের বাড়ির সামনে এসে ব্রেক কষে। দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং মাথায় ছিল হেলমেট, যাতে সিসিটিভি (CCTV) বা কোনোভাবেই তাদের চেনা না যায়। বাইক থেকে নেমেই কোনো কিছু ভাবার আগেই প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছুড়তে শুরু করে তারা। মোট চারটি বোমা ছোড়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

হামলাকারীদের ছোড়া ৪টি বোমার মধ্যে ৩টি বোমাই প্রচণ্ড শব্দে ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বাড়ির সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খড়দহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুরো এলাকা কর্ডন করে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১টি না-ফাটা তাজা শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি লটারি কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি এবং প্রতারণার গুরুতর অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমনকি শনিবারই তাকে সোদপুর ও পানিহাটির রাস্তায় ঘোরানোর সময় সাধারণ মানুষ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয়। ছেলের এই চরম বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ বাবা নির্মল ঘোষের বাড়ি লক্ষ্য করে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটল।

এই বোমাবাজির পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ রয়েছে, নাকি এর পেছনে কোনো বড়সড় তোলাবাজি সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো গভীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল লুকিয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখতে খড়দহ থানার পুলিশ এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। মাঝরাতের এই বোমাবাজির পর সোদপুরের ওই এলাকা জুড়ে এখন থমথমে পুলিশি পাহারা।