প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের হাইভোল্টেজ শহীদ দিবসের মঞ্চ প্রস্তুত। ঠিক তার আগেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনীতির মূল স্রোত বা দলের প্রকাশ্য কর্মসূচিগুলোতে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হরেক রকমের জল্পনা ডানা মেলছিল। এবার সমস্ত গুঞ্জনকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক অভূতপূর্ব স্বীকারোক্তি দিলেন তিনি।সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সময়ের রাজনীতির ওপর তিনি চরমভাবে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাজনীতিতে এখন আর তাঁর মন টিকছে না। তাহলে কি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে চলেছেন? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, তিনি এখন আর নিজেকে স্রেফ একজন ‘পেশাদার রাজনীতিক’ ভাবেন না, বরং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেই শান্তিতে বাকি সময়টুকু কাটাতে চান।
সাংসদ পদ অলঙ্কৃত করে রাখলেও বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, তিনি তাঁর পুরনো প্রেম অর্থাৎ সুরের জগতেই পুরোপুরি আস্তানা গেঁড়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি এখন পুরোপুরিভাবে গানবাজনায় ফিরে গেছি”। বিগত ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পদ্মশিবিরে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গীত জীবনে যে একপ্রকার অলিখিত বিধিনিষেধ বা অন্তরায় তৈরি হয়েছিল, ২০২১ সালের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে তিনি তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি কোনো রাজনৈতিক জটিলতায় না জড়িয়ে নিজের কণ্ঠ এবং গানকেই সময় দিতে চান।
রাজনীতির প্রতি অনীহা প্রকাশ করলেও দলবদল বা দল ছাড়ার জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এই গায়ক-রাজনীতিক। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলার শহীদ দিবসের ঐতিহাসিক মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই তাঁকে দেখা যাবে। কোনো বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
একই সাথে সম্প্রতি দল পরিবর্তন করা বা দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো নেতাদের কড়া বার্তা দিয়ে বাবুল বলেন, কোনো দলের আদর্শ পছন্দ না হলে নৈতিকভাবে প্রথমেই বিধায়ক বা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার—সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদের বাকি সময়টা তিনি শান্তিতে কাটাতে চান এবং সমান্তরালভাবে নিজের সুরের কেরিয়ারকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান। রাজনীতিতে চরম অনীহার এই স্বীকারোক্তি আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো নতুন মোড় আনে কি না, সেটাই এখন দেখার।