প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই কলকাতার বুকে আয়োজিত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘শহীদ দিবস’। তবে এবারের ২১শে জুলাইয়ের আগে রাজনৈতিক মহলে অন্যতম বড় চর্চার বিষয় ছিল—সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় কি এই ঐতিহাসিক মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন? বেশ কিছুদিন ধরে দলের মূল স্রোত থেকে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল। অবশেষে গতকাল সমস্ত জল্পনা ও জল্পনাকারীদের মুখে ছাই দিয়ে নিজের অবস্থান এক্কেবারে পরিষ্কার করে দিলেন খোদ বাবুল।বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে ফিসফাস চলছিল যে, তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ হয়তো ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এমনকি তাঁর দলবদল নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশ নানা জল্পনা উসকে দিচ্ছিল। কিন্তু গতকাল সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাবুল সুপ্রিয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলার শহীদ দিবসের মহাসমাবেশে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই তাঁকে সগৌরবে দেখা যাবে।
দলের সাথে দূরত্ব বা মান-অভিমানের তত্ত্বকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এই গায়ক-রাজনীতিক। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যারা জলঘোলা করছিল, তাদের অনুমান সম্পূর্ণ ভুল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা তিনি তাঁর মন্তব্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবুল সুপ্রিয়-র এই ঘোষণা তৃণমূল শিবিরের জন্য ২১শে জুলাইয়ের আগে বড়সড় স্বস্তির বার্তা। কারণ দলের অন্যতম হেভিওয়েট এবং জনপ্রিয় মুখকে নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা মেটায়, শহীদ দিবসের মঞ্চে দল যে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ—সেই বার্তাই এবার আমজনতার কাছে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতার পাশে বাবুলের উপস্থিতি দেখার জন্য এখন মুখিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।