প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন যে, হিন্দুদের ভোট তার দল পাবে না। সব হিন্দুরা একত্রিত হচ্ছে এবং তৃণমূলকে সরানোর জন্যই তারা বিজেপিকে ভোট দেবে। আর তা বুঝতে পেরেই এখন ভোটের আগে নিজেকে হিন্দু দরদী প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। যার কারণে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর একদিকে দুর্গা অঙ্গন, আর একদিকে মহাকাল মন্দিরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। গতকাল শিলিগুড়িতে সেই মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেই শিলান্যাসের আগে তিনি যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন, তা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় দোয়া শব্দের কথা উল্লেখ করে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু ধর্মের পবিত্র মন্দিরের শিলান্যাস করতে গিয়ে কেন সকলকে দোয়া করার কথা বললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভেকধারী হিন্দু, সেই কথা বলে সোচ্চার হলেন শুভেন্দু অধিকারী।

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি শিলান্যাসের ঠিক আগে মা-বোনেদের শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি দেওয়ার পাশাপাশি দোয়া করার কথা বলেন। আর আজ সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দুদের ভোট পাওয়ার জন্য যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত শিলান্যাস করছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি দোয়া করার কথা বলছেন, তা যে হিন্দু সনাতনীদের ধর্মের জন্য বড়সড় আঘাত, সেই কথা উল্লেখ করে গর্জে ওঠেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

সূত্রের খবর, কিছুক্ষণ আগেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর গতকাল মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের আগে যে বক্তব্য, সেই ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। আর সেখানেই শুভেন্দুবাবু লেখেন, “হিন্দুদের লজ্জা মমতা! হিন্দুদের ভোটের খরা মেটাবার উদ্দেশ্যে নানান প্রচেষ্টা করছেন, কিন্তু ওনার নিজের মনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব কিছুতেই মিটছে না। শ্যাম রাখি না কুল রাখি এমন পরিস্থিতিতে ‘মহাকাল মন্দির’ এর শিলান্যাসের সময় ‘দোয়া’ করার আহবান জানাচ্ছেন !!!
বাঙালি হিন্দুদের অভিধানে ‘দোয়া’ বলে কোনো শব্দ নেই। আপনি আসলে ভেকধারী হিন্দু, দু’নৌকায় পা দিয়ে চলার পরিণাম খুব শিগগিরই পাবেন, তখন হরিনাম করলেও পাপস্খলন হবে না….।”