প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা ফুটবল ময়দানে এবার এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারির বিস্ফোরণ! শতবর্ষ প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কি তবে এক চরম আর্থিক প্রতারণার শিকার? ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের দাবি এবং আইনি পদক্ষেপ ঘিরে এখন তোলপাড় ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহল। কাঠগড়ায় আর কেউ নন—খোদ ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রভাবশালী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর! ক্লাবের বকেয়া ও আর্থিক সংকট মেটাতে কোটি কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় চেয়ারে বসলেও, তাঁর দেওয়া দেড় কোটি টাকার ৩টি চেকই ব্যাঙ্ক থেকে বাউন্স করেছে! এই চরম অসহযোগিতা ও অসম্মানের মুখে দাঁড়িয়ে চুপ থাকেনি মহামেডান কর্তৃপক্ষ। বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য বিধায়ককে ইতিমধ্যেই দুটি কড়া সংবিধিবদ্ধ আইনি নোটিস (Statutory Legal Notices) ধরানো হয়েছে।

ক্লাব সূত্রের খবর, মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ফিফা (FIFA) সংক্রান্ত আর্থিক সমস্যা মেটাতে এবং ক্লাবকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি (কারো মতে ২৪ কোটি) টাকা দেওয়ার বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এই আশ্বাসের ওপর ভর করেই তাঁকে ক্লাবের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ ‘প্রেসিডেন্ট’ বা সভাপতির মুকুট পরানো হয়। কিন্তু আসল খেলা শুরু হলো জুলাই মাসে। ক্লাবের জরুরি বকেয়া মেটানোর জন্য তিনি গত ১৭, ২০ এবং ৩০ জুলাই তারিখে ৫০ লাখ টাকা করে মোট ৩টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যাঙ্ক থেকে সেই চেক ফেরত আসে “ফান্ডস ইনসাফিসিয়েন্ট” (Funds Insufficient) বা অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে! ফুটবলারদের বেতন ও ক্লাবের পরিকাঠামো যখন সংকটে, তখন খোদ সভাপতির এই ‘হ্যাটট্রিক’ চেক বাউন্সে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ক্লাব কর্তারা।

ক্লাবের আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে যদি বকেয়া দেড় কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া না হয়, তবে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (Negotiable Instruments Act) ১৩৮ এবং ১৪২ ধারা অনুযায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা রুজু করা হবে। ক্লাব কর্তাদের চাঁছাছোলা বার্তা, “এটা শতাব্দী প্রাচীন মহামেডান ক্লাব, ওঁর নিজস্ব জেলার রাজনীতি বা খেয়ালখুশি নয়। ক্লাবের সম্মান নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না।”

এই চরম বিতর্কের মুখে পড়ে অবশ্য দমে যাননি বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। চেক বাউন্সের ঘটনাকে প্রথমে তিনি ‘প্রযুক্তিগত ভুল’ বা ‘ব্যাঙ্কের গাফিলতি’ বলে এড়ানোর চেষ্টা করলেও, আইনি নোটিস আসতেই তাঁর সুর বদলে গিয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তিনিও এর আইনি জবাব দেবেন। তবে আগামী ১০ই আগস্টের মধ্যে এই সমস্যা মিটে যাবে বলেও এক প্রকার আশ্বস্ত করেছেন তিনি। এখন দেখার, ১০ই আগস্টের মধ্যে হুমায়ুন কবীর তাঁর এই কোটি টাকার আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ক্লাবের সম্মান বাঁচান, নাকি এই চেক বাউন্স কাণ্ড তাঁকে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়! ময়দানের এই হাই-ভোল্টেজ নাটকের দিকেই এখন চোখ সবার।