প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের লালফিতের ফাঁস এবং প্রশাসনিক শৈথিল্য দূর করে ‘সুশাসন’ (Good Governance) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। রাজ্যে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্ন এবার সরকারি স্তরে কড়া শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা জারি করেছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল কর্তৃক জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পূর্বানুমতি ছাড়া আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS), ডব্লিউবিসিএস (WBCS) সহ কোনো স্তরের সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারী সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান বা প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন না। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জলঘোলা করতে শুরু করেছে ক্ষমতাচ্যুত ও কোণঠাসা বিরোধী শিবির। তবে তথাকথিত সমালোচকদের সেই সস্তা রাজনীতি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারকে তীব্র কটাক্ষ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন—রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি ব্যবস্থার গাম্ভীর্য ধরে রাখতে এই আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বিরোধীরা একে ‘মুখ বন্ধ করার চেষ্টা’ বলে অপপ্রচার চালালেও, আইনের পরিভাষায় এটি আসলে অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (Conduct) Rules এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির অবিকল বাস্তবায়ন। দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই কড়া আচরণবিধি আইনগতভাবেই বাধ্যতামূলক। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজ্যে কেবল সেই আইনের অনুশাসনকেই কঠোরভাবে বলবৎ করেছে। আমলা ও সরকারি কর্মীদের মূল কাজ হলো নীতি নির্ধারণ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এসে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা বা সরকারের নীতি নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করা কোনো পেশাদার কর্মচারীর এক্তিয়ারে পড়ে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আমলাতন্ত্রকে প্রচারের আলো থেকে দূরে সরিয়ে জনগণের কাজে বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করবে। বিগত দিনে সরকারি গোপন ফাইল, নথিপত্র কিংবা সংবেদনশীল প্রশাসনিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনিক গোপনীয়তাকে নষ্ট করেছে। নতুন এই কঠোর নির্দেশিকার ফলে সরকারি তথ্যের বেআইনি পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং নবান্নে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারিয়ে নির্দিষ্ট কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। নতুন সরকারের এই নির্দেশিকার পর প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সমস্ত রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং বেআইনি প্রভাব দূর হবে।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল এবং রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা মনে করছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই কড়া পদক্ষেপ আদতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি আধুনিক, গতিশীল এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। বিরোধীদের সস্তা কুৎসার যোগ্য জবাব দিয়ে আজ আমজনতাও বিশ্বাস করছে যে, সরকারি ব্যবস্থায় রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ফাইল সচল রাখা এবং জনগণের কাজ দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই প্রশাসনিক সংস্কার। শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক গতিশীলতা ও জবাবদিহিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।