প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বহুপ্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ। কিন্তু তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, সোমবার দুপুরে এক নজিরবিহীন পুলিশি রদবদলের নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। নন্দীগ্রাম থানার বর্তমান ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (IC) অজয় কুমার মিশ্রকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর জায়গায় নন্দীগ্রাম থানার নতুন আইসি (IC) হিসেবে দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। দেবাশিস সরকার এর আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে বদলি করে সরাসরি নন্দীগ্রামের আইন-শৃঙ্খলার মতো সংবেদনশীল হাইভোল্টেজ দায়িত্ব তাঁর কাঁধে সঁপে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন এই পুলিশি রদবদল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই আকস্মিক পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করা হলেও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এলাকায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভীক নির্বাচন প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী আইসি-র বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা সামলানোর ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের কোনো অভিযোগ কমিশনের স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়েছিল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে।

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই দেবাশিস সরকারকে নন্দীগ্রাম থানার আইসি পদের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি পদে যোগ দেওয়ার পরপরই সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে। মঙ্গলবার কড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) নজরদারিতে নন্দীগ্রামে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের দিন নন্দীগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।