প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আবহের মধ্যেই খাস কলকাতায় দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চরম অসম্মানের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত অভিজাত এলাকা নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা তিন মাথার মোড়ে (টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের কাছে) নেতাজির একটি আবক্ষ মূর্তির ডান হাত ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা। বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তারক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকজন সমাজবিরোধী বা দুষ্কৃতী সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে দেশনায়কের মূর্তির ডান হাতটি কবজি থেকে ভেঙে দিয়েছে।
এই ঘটনার সময়কাল বা ‘টাইমিং’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ঠিক এক দিন আগেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, বাংলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনো রকম কুৎসা বা অসম্মানজনক মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া বার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খোদ কলকাতায় এই মূর্তি ভাঙার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে দাবি করছে বিজেপি।একই দিনে নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেটার কোচবিহার নেতা তথা বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সম্মানও প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই জোড়া আবহের মাঝেই নিউ আলিপুরের এই ঘটনাটি ঘটল।
উত্তেজনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত বিতর্কিত মূর্তিটি প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেয়। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই মূর্তি ভাঙার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।প্রাকৃতিক কারণ নাকি চক্রান্ত?
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এলাকার কিছু স্থানীয় দোকানদার (যেমন পানের দোকান ও চায়ের দোকানদার) দাবি করেছেন যে, মূর্তির এই অংশটি প্রায় মাস দুয়েক আগে থেকেই প্রাকৃতিক কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত বা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে একে সরাসরি দুষ্কৃতী হামলা এবং দেশনায়ককে অপমান করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা বলেই দাবি করেছে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।