প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পরিকল্পনা বা ট্রেনের টিকিট বুকিং করা থাকলে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত দুঃসংবাদ। পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনে এক নজিরবিহীন রেল বিপর্যয়ের জেরে স্তব্ধ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। ভারী বৃষ্টির কারণে নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙা স্টেশনের মাঝামাঝি আপ লাইনের নিচের মাটি ধসে গিয়ে রেললাইন বসে গিয়েছে। সুরক্ষার স্বার্থে তড়িঘড়ি শিয়ালদা ও হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাতের মেগা ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফরাক্কা ব্যারেজে প্রবেশের মুখে এই ভয়াবহ ধসের ঘটনাটি ঘটে। রেললাইন বিপজ্জনকভাবে বসে যাওয়ায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

রেলের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে, লাইনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতের নিম্নলিখিত ট্রেনগুলি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ১. শিয়ালদা-আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, ২. শিয়ালদা-হলদিবাড়ি দার্জিলিং মেল, ৩. শিয়ালদা-মালদা টাউন গৌড় এক্সপ্রেস, ৪. শিয়ালদা-নিউ আলিপুরদুয়ার পদাতিক এক্সপ্রেস। এছাড়াও আজ ও আগামীকালের কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার আপ ও ডাউন ট্রেনকে ব্যান্ডেল-কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রুট দিয়ে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। কেবল উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসকে একটি বিকল্প সিঙ্গেল লাইন দিয়ে অত্যন্ত ধীর গতিতে পার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হঠাৎ করে একসঙ্গে উত্তরবঙ্গের সমস্ত প্রধান ট্রেন বাতিল হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বহু মানুষ সপরিবারে শিয়ালদা এবং হাওড়া স্টেশনে এসে ট্রেনের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ট্রেনের বিকল্প হিসেবে কলকাতার ধর্মতলায় সরকারি ও বেসরকারি বাসের টিকিটের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এই সুযোগে দূরপাল্লার বাসের টিকিটের দাম কালোবাজারি করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা যেন স্টেশনে আসার আগে অবশ্যই হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে নেন।