প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টালিগঞ্জের চেনা স্টুডিও পাড়ার আর্থিক ও পরিকাঠামোগত খরা দূর করতে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক রূপরেখা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বৃহস্পতিবার নন্দনে আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলা সিনেমার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে তার ‘অমৃতকাল’ প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যপূরণে রাজ্য সরকার আর্থিক বা পরিকাঠামোগত কোনো কার্পণ্য করবে না।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই টলিউডের প্রযোজক এবং সিনেমা হল মালিকরা ধুঁকছিলেন। মুম্বই বা দক্ষিণী ফিল্মের তুলনায় বাজেট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অভাবে বাংলা সিনেমা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছিল। এই সংকট কাটাতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। নন্দনের মঞ্চ থেকে কলাকুশলীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা শুধু বিশ্বমানের এবং ভালো কনটেন্টের সিনেমা তৈরি করুন, বাকি দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। ছবি তৈরির মানোন্নয়নে ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অর্থের অভাব হবে না। রাজ্য সরকার এর জন্য বিশেষ ফান্ড ও প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করছে।”

নবান্ন সূত্রের খবর, বাংলা সিনেমার প্রসারে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে ‘মিনি সিনেমা হল’ তৈরির কাজ সহজ করার পাশাপাশি সিনেমা হল ও মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলক ‘প্রাইম টাইম’ শো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে নতুন প্রশাসন। এর পাশাপাশি স্টুডিও পাড়ার কয়েক হাজার দৈনিক টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। প্রয়োজনে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) আওতায় এনে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।উত্তমকুমারের স্মৃতি রক্ষার্থে নিউ টাউনে ২৫ কোটি টাকার ফিল্ম সেন্টার গড়ার ঘোষণার পাশাপাশি রাজকোষের এই উদার আর্থিক নীতি ও সহায়তার বার্তা টলিউডের প্রযোজক-পরিচালকদের নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে সিনে মহল।