প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শিল্পকে বৈপ্লবিক অক্সিজেন দিতে এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের ঐতিহাসিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে খোদ মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর একটি বিশেষ আবদার বা প্রস্তাবকে মুহূর্তের মধ্যে সিলমোহর দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় সিনেমা শুটিং করতে এলে প্রযোজকদের জন্য সরাসরি ৩০ শতাংশ ভরতুকি (Subsidy) বা কর ছাড়ের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নন্দনে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী টলিউডকে আবার দেশের এক নম্বর ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানান।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “যদি আমরা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে আবার তার পুরনো সোনালী ও গৌরবের দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তবে আমার একটিই বিশেষ অনুরোধ—অন্য রাজ্য বা বাইরে থেকে যে সমস্ত প্রযোজক-পরিচালকরা বাংলায় সিনেমা শুটিং করতে আসবেন, তাঁদের যেন রাজ্য সরকারের তরফে ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হয়।” মিঠুনের এই প্রস্তাব শোনা মাত্রই মঞ্চে বসেই সাগ্রহে সম্মতি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আপনারা যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই হবে। টলিউডের স্বার্থে সরকার দু’হাত বাড়িয়ে পাশে থাকবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক সবুজ সংকেত পেয়ে আপ্লুত মিঠুন চক্রবর্তী দর্শকাসনের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, “একেই বলে মুখ্যমন্ত্রী!”
তবে এই ভরতুকি বা ইনসেন্টিভ সরাসরি ক্যাশ বা নগদ অর্থে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী নিজেই পরবর্তী সময়ে বিষয়টি খোলসা করে জানান যে, এই ৩০ শতাংশ আর্থিক সুবিধা মূলত বিনোদন কর (Entertainment Tax) বা সিনেমার অন্যান্য সরকারি করের সাথে সামঞ্জস্য (Adjust) করে দেওয়া হবে। অভিনেতা জানান, তিনি খুব দ্রুত ফেডারেশন এবং ইম্পা (EIMPA)-এর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাব তৈরি করবেন এবং তা অনুমোদনের জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দেবেন। বলিউড বা দক্ষিণী সিনেমার তুলনায় বাংলা সিনেমার বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবং দেশ-বিদেশের বড় বড় প্রযোজনা সংস্থাকে কলকাতায় শুটিংয়ের জন্য আকর্ষণ করতে নবান্নের এই ভরতুকি নীতি এক বৈপ্লবিক গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে বলে মনে করছেন সিনে বিশেষজ্ঞরা।