প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো চটকল, পরিবহন এবং কলকারখানার শ্রমিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের জমানা—শ্রমিক ভোটব্যাঙ্ক সবসময় শাসকদলের শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এবার ঠিক সেই জায়গাতেই সরাসরি আঘাত হানল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবির। কালীঘাটের শ্রমিক মহলের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চূর্ণ করতে সমান্তরাল ‘রাজ্য শ্রমিক সংগঠন’ (INTTUC) কমিটি ঘোষণা করে দিল বিদ্রোহীরা। আর এই কমিটির শীর্ষ পদে এমন এক পোড়খাওয়া লড়াকু নেতাকে আনা হয়েছে, যার জেরে শিল্পাঞ্চলগুলিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী শিবিরের নতুন রাজ্য শ্রমিক সংগঠনের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ ‘সভাপতি’ করা হয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া শ্রমিক নেতা নির্মল দে-কে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতা, চব্বিশ পরগনা, হুগলি ও হাওড়ার চটকল এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের নিজেদের দিকে টানতেই নির্মল দে-কে সামনে রেখে এই মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে। মমতা শিবিরের শ্রমিক সংগঠনে যে সমস্ত আদি ও বঞ্চিত কর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন, তাঁদের এক ছাতার তলায় আনাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা খুব ভালো করেই জানেন যে, বাংলায় তৃণমূলকে বুথ স্তরে দুর্বল করতে হলে তাদের শ্রমিক ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানো আবশ্যিক। বিশেষ করে পরিবহন ও কলকারখানার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার শ্রমিকের সমর্থন ছাড়া বাংলায় সমান্তরাল শক্তি গড়ে তোলা অসম্ভব। আর সেই কারণেই সম্পূর্ণ নতুন এবং নিজস্ব ভাবমূর্তির এই শ্রমিক কমিটি গঠন করা হলো। নতুন সভাপতি নির্মল দে-র নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে গিয়ে দলের আদি ও বঞ্চিত শ্রমিক কর্মীদের নিজেদের পক্ষে টানার কাজ শুরু করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশের পর তৃণমূলের চেনা চটকল ও শিল্পাঞ্চলগুলির শ্রমিক মহলে কতটা ভাঙন ধরে এবং কালীঘাটের নেতৃত্ব কীভাবে এর পাল্টা জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।