প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবশেষে ঘুচল দীর্ঘ কয়েক দশকের অন্ধকার। বাংলায় উগ্রপন্থা, দুর্নীতি আর সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটিয়ে জনতা জনার্দনের আশীর্বাদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। আর এই নতুন, কলঙ্কমুক্ত এবং প্রগতিশীল বাংলায় প্রথমবার পা রাখছেন দেশের প্রধান সেবক নরেন্দ্র মোদী। আগামীকাল, ২০ জুন থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দু’দিনের মেগা পশ্চিমবঙ্গ সফর। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজ্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে। যে বাংলা এতদিন কেন্দ্রের সৎ উদ্দেশ্যকে কেবলই রাজনৈতিক স্বার্থে বাধা দিয়ে এসেছে, আজ সেই বাংলায় দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রী দু’হাত উজাড় করে দেবেন কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প।
বিগত বছরগুলোতে কেন্দ্রের কৃষক কল্যাণ প্রকল্পগুলোকে যেভাবে রাজ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই সেই বঞ্চনার অবসান ঘটেছে। সফরের প্রথম দিনেই হুগলির তারকেশ্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির (PM-KISAN) ২৩তম কিস্তি বাবদ মোট ১৮,৮৮০ কোটি টাকা সরাসরি দেশের ৯ কোটি ৪৪ লক্ষেরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাবেন মোদী। যার মধ্যে বাংলারই প্রায় ৪৫ লক্ষেরও বেশি প্রান্তিক চাষী সরাসরি তাঁদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবেন। ভোটব্যাঙ্কের নোংরা রাজনীতির কারণে এতদিন বাংলার অন্নদাতাদের যে টাকা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, আজ রাজ্যে পদ্ম সরকার আসতেই সেই টাকা সরাসরি কৃষকদের পকেটে ঢুকছে।
হুগলিতে ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদী। এই পবিত্র দিনে বাংলার কৃষিকে আধুনিক ও স্বনির্ভর করতে একযোগে চালু হতে চলেছে ৪টি বড় স্কিম—’প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’, ‘ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং’, ‘এগ্রি-স্ট্যাক’ এবং যুগান্তকারী ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা’। এর পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক ও রেল পরিকাঠামোর ভোল বদলে দিতে একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন তিনি। মোদী সরকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—”যে বাংলায় এতদিন শুধু তোলাবাজি চলত, সেখানে এখন শুধুই পরিকাঠামো উন্নয়নের মহোৎসব চলবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২১ জুন কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবেন বিশ্বজনীন উদযাপনে নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এবারের থিম “Yoga for Healthy Ageing”-কে সামনে রেখে কলকাতার বুকে যোগাভ্যাস করবেন তিনি, যা নতুন বাংলার সংস্কৃতির মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যোগ করবে। এরপরই দেশের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে কলকাতার গৌরব বাড়িয়ে গার্ডেনরিচে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নৌবাহিনীর ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ (INS Dunagiri, INS Sanshodhak ও INS Agray) দেশের জলসীমা সুরক্ষায় উৎসর্গ করবেন মোদী।
বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষাই মোদী সরকারের মূল অগ্রাধিকার। অপশাসনের দিন শেষ করে বাংলা যে এবার প্রকৃত অর্থেই ‘সোনার বাংলা’ ও ‘বিকসিত বাংলা’ হওয়ার সরণিতে পা বাড়াল, মোদীর এই দু’দিনের সফর তারই অকাট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ।